Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় বজরার নৌকা, পঞ্চশস্য ও সোনা-রুপোয় নবপত্রিকার পুজো

কাটোয়ায় নবপত্রিকাকেই কোজাগরী মা লক্ষ্মী রূপে পুজো করেন অনেক বাসিন্দা। আস্ত নবপত্রিকাকে কাপড় পরিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। আবার নবপত্রিকার বজরা কেটে নৌকা তৈরি করে তাতে পঞ্চশস্য এবং সোনা-রুপোর মুদ্রা রেখে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়

কাটোয়ায় বজরার নৌকা, পঞ্চশস্য ও সোনা-রুপোয় নবপত্রিকার পুজো
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় নবপত্রিকাকেই কোজাগরী মা লক্ষ্মী রূপে পুজো করেন অনেক বাসিন্দা। আস্ত নবপত্রিকাকে কাপড় পরিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। আবার নবপত্রিকার বজরা কেটে নৌকা তৈরি করে তাতে পঞ্চশস্য এবং সোনা-রুপোর মুদ্রা রেখে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। পূর্ব বঙ্গীয় প্রাচীন এই রীতি মেনেই কাটোয়ার বহু বাড়িতেই মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয়ে থাকে। 

Advertisement

হিন্দু ধর্মে নবপত্রিকাকে খুবই পবিত্র মনে করা হয়। একদিকে যেমন কলাকে দেবগুরু বৃহস্পতির সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লোকপুরাণ অনুসারে নবপত্রিকাকে মনে করা হয় স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার। তাই আজও নবপত্রিকাকে মনে করা হয় বিষ্ণুপ্রিয়া। কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোয় তাই কাটোয়ার পানুহাট, দাঁইহাটে বহু বাড়িতেই নবপত্রিকারূপী মা লক্ষ্মী পূজিত হয়। মূলত পূর্ববঙ্গীয় গৃহস্থদের মধ্যে এই রীতির প্রচলন বেশি দেখা যায়।  তাই কাটোয়ার পানুহাটে পূর্ববঙ্গীয় বাসিন্দাদের বাড়িগুলিতেই বেশি নবপত্রিকার পুজো দেখা যায়। তাঁরা লক্ষ্মীপুজোর দিন নবপত্রিকা এনে তাতে কাপড় পরিয়ে পুজো করেন।  এই রূপে মূলত শস্যের দেবী হিসাবেই পূজিত হন মা লক্ষ্মী। পানুহাটের মাধাইতলা পালপাড়ার গৃহবধূ টুনু কুণ্ডু বলেন, আমার শ্বশুর মশাই ছিলেন পূর্ববঙ্গীয়। তাই পরিবারের রীতি মেনে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরেই এভাবে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করে আসছি। পানুহাটের আরেক বাসিন্দা পলি সাহার কথায়, বাংলাদেশে আমার শাশুড়ি এভাবেই মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতেন। তাই এপার বাংলায় আমরাও পুরানো সেই রীতি মেনে নবপত্রিকাকে মা লক্ষ্মী রূপে পুজো করি।  পানুহাটের মাধাইতলার বাসিন্দা কুণ্ডু পরিবারে বিষ্ণুপ্রিয়ার আরাধনা হয় নবপত্রিকা তৈরি করে। পুজোর আগের দিনই ফল দেয় এমন এক কলাগাছ কেটে আনা হয়। তারপর নবপত্রিকার সঙ্গে আরও চার রকম গাছ বেঁধে দেওয়া হয়। তার মধ্যে থাকে ধান, হলুদ, তুলসি ও মানকচু। এরপরে নবপত্রিকাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। সিংহাসনে নবপত্রিকা রেখে সেটিকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। পানুহাটের আরেক বাসিন্দার কথায়, বাংলাদেশে এভাবেই আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হতো। এখানে আসার পরেও সেই রীতিই চলে আসছে। আমরা এই লক্ষ্মীকে বলি নবপত্রিকা লক্ষ্মী।   
দাঁইহাটের বাসিন্দা ঋতু শীল, প্রতিমা শীলরা বলেন, মা লক্ষ্মী যেমন কৃষির দেবী তেমনি বাণিজ্য ও ধনসম্পদেরও দেবী। তাই বাণিজ্যতরী সাজিয়ে আমরা মায়ের আরাধনা করি।  শুধু তাই নয়, এই পুজোর আর এক বৈশিষ্ট্য হল নৌকা। নবপত্রিকা বাজরা কেটে নৌকা তৈরি করে তাতে পঞ্চশস্য এবং সোনা-রুপোর মুদ্রা রেখে লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। কেউ কেউ এখন পিতলের তৈরি নৌকাও ব্যবহার করেন। তাতেই সব উপকরণ রেখে পুজো হয়। অনেক বাড়িতে আবার ধানের মড়াই তৈরি করেও সাজিয়ে দেওয়া হয় লক্ষ্মীদেবীর সামনে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ