মেরুন রঙের সিল্ক। তার উপর সাদা সুতোর কাজ। কাঁথা বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্প। শাড়িজুড়ে কাঁথা সেলাই করা হয়েছে। চতুষ্পর্ণীর ফ্যাশন শ্যুটে পৌঁছে এই শাড়িটি প্রথমেই পছন্দ হল অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসুর। পুজোয় শাড়ি পরতে ভালোবাসেন তিনি। আর সিল্কে কাঁথাস্টিচ শুধু পুজো নয়, যে কোনো উৎসবে পরা যায়। আটপৌরেভাবে শাড়িটি পরানো হয়েছিল। অফ হোয়াইট কনট্রাস্ট ব্লাউজ দিয়ে স্টাইলিং করা হয়েছে। সঙ্গে মুক্তোর গয়না। বনেদি খোঁপার স্টাইল এবং ছোট্ট টিপ যেন সাজ সম্পূর্ণ করেছে। অভিনেতা রাহুল দেব বসুর পরনে রয়েছে ডিজাইনার পাঞ্জাবি। সেখানেও হাতের কাজের ছোঁয়া। মেরুন রঙের পাজামা দিয়ে পরেছেন অভিনেতা। পুজো মানে এই জুটির কাছে সাবেকি সাজ। সারা বছর শ্যুটিংয়ে নানা ধরনের পোশাক পরলেও উৎসবের দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাজতে ভালোবাসেন। দু’জনে একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে হেসে উঠতেই দূরে কোথাও যেন ঢাকের বাদ্যি বেজে উঠল। এবারের পুজোয় কলকাতার বাইরে থাকবেন দেবাদৃতা। সারা বছর শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার পর পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন। তাই পুজোয় হয়তো শাড়ি পরা হবে না। তবে কাঁথাকাজের শাড়িটি জমিয়ে রাখলেন তিনি। যে কোনো সূচিশিল্প আসলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতবদল হয়। এই মায়ার কোনো বিকল্প নেই।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য
কোন ধরনের গয়নায় সাজবেন? রইল পরামর্শ।
• পুজোর চারদিন চাই আলাদা ধরনের স্টাইল। তার প্রস্তুতি চলে সারাবছর। এখন থেকে পরিকল্পনা করলে আপনি এবার পুজোয় সব দিক থেকেও শারদ সুন্দরী হয়ে উঠতে পারবেন। দেখে নেওয়া যাক কোন কোন গয়না ট্রেন্ডিং।
• পুজোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মোটিফের গয়না খুব ট্রেন্ডিং। শঙ্খ, ত্রিশূল, জবা বা পদ্মফুলের মোটিফের পেনডেন্ট, দুল শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ভালো মানাবে। আবার সেমি ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও একটা স্টেটমেন্ট পিস ক্যারি করতে পারেন।
• গামছার উপর মাটি দিয়ে তৈরি মাটির মা দুর্গার মুখ। লাল কাপড়ের ফ্রিল দিয়ে তা হাইলাইট করা হয়। এই ধরনের পেনডেন্ট শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানাবে। কড়ির রকমারি দুল দিয়ে স্টাইল করুন। হাতে পরুন গামছা ও কড়ি দিয়ে তৈরি ব্যাঙ্গেল।
• অক্সিডাইস, মেটাল বা সিলভার লুক অ্যালাইক গয়না এখন খুব ট্রেন্ডিং। হাঁসুলির মতো নেকপিসে কখনো মা লেখা, কখনো লেখা কোনো বৈদিক মন্ত্র। শাড়ি তো বটেই কুর্তি, টপের সঙ্গেও মানাবে।
• দক্ষিণ ভারতীয় সুতি বা সিল্ক এই পুজোয় ট্রেন্ডিং। সেই ধরনের শাড়ি আপনার সংগ্রহে থাকলে অ্যান্টিক জুয়েলারি পরুন। টেম্পল মোটিফের গয়না, কুন্দন এই ধরনের সাজের সঙ্গে ভালো মানাবে।
• ব্রাস জুয়েলারি ২০২৬-এ পছন্দ করছেন নানা বয়সের মহিলা। হাতের একটা ব্যাঙ্গেল বা কানের ঝোলা দুল অথবা একটা বড়ো ব্রাসের আংটি পরলেই সাজ সম্পূর্ণ। শুধু পুজো নয়, সারা বছর এই ধরনের গয়নায় সেজে অফিস হোক বা পার্টি, জমিয়ে দিচ্ছেন সকলে।
• ইকো ফ্রেন্ডলি গয়না ইদানীং পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। যেমন উল দিয়ে তৈরি গজরা বা হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে আপনি চুলের স্টাইল করতে পারবেন। পুজোর যে কোনো একদিন এই ধরনের বোহো স্টাইলও করতে পারেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি