পুজোয় কেমন হবে ছোটোদের সাজ? চতুষ্পর্ণীর শ্যুটে অনুমেঘা কাহালি এবং ধৃতিষ্মান চক্রবর্তী।
পুজোয় কেমন হবে ছোটোদের সাজ? চতুষ্পর্ণীর শ্যুটে অনুমেঘা কাহালি এবং ধৃতিষ্মান চক্রবর্তী।
মা আসছেন। প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগের আর এক নাম। সব দুঃখ, কষ্ট, মালিন্য এসময় যেন দূর হয়ে যায়। মায়ের কাছে সব কথা বলে ফেলতে পারলেই মন হালকা হয়ে যায়। বড়োদের যেমন আনন্দ, একই ভাবে ছোটোরাও আনন্দে মেতে ওঠে। এক একটা করে নতুন জামা জমা হয়। আর কার ক’টা জামা হল, তা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠে ছোটোরা। কখনো বন্ধুদের সঙ্গে সে গল্প চলে। কখনো বা ভাই-বোনেদের মধ্যে চলে কাউন্টিং। কোন দিন কোন জামা পরবে, তার তালিকাও তৈরি করে নেয় খুদেরা। চতুষ্পর্ণীর ফ্যাশন শ্যুটে অনুমেঘা কাহালিও তার ব্যতিক্রম নয়। যেকোনো রকম শ্যুটিংয়েই তার ভারী আগ্রহ। আর নতুন জামা পরে ক্যামেরায় পোজ দিতে পেরে খুব খুশি। গোলাপি অনুমেঘার পছন্দের রং। তার জামাটিও পিঙ্ক। পালাজো প্যান্ট এবং ডিজাইনার টপের এই সেট ছোটোদের খুবই পছন্দ হবে। তার সঙ্গে চোখে পড়ার মতো ওড়নাটি। বড়োদের মতো ওড়না নিতে পেরে অনুমেঘার আনন্দ আর ধরে না! চুলের ক্লিপ হোক বা হাতের ঘড়ি সবই ম্যাচ করে গোলাপি রঙেরই পরানো হয়েছিল তাকে। সাদা জুতো এই পোশাকের সঙ্গে ক্যারি করেছে অনুমেঘা।
গান, অভিনয়ের ধারার সঙ্গে ছোটো থেকেই যুক্ত ধৃতিষ্মান চক্রবর্তী। ২০২২ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার পেয়েছে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি নানা দিকে উৎসাহ রয়েছে ধৃতিষ্মানের। চতুষ্পর্ণীর ফ্যাশন শ্যুটে সে উকুলেলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পোজ দিল। না! শুধু ফোটোশ্যুটের জন্য নয়। এই বাদ্যযন্ত্র চমৎকার বাজাতেও পারে সে। পুজো মানেই ধৃতিষ্মানের কাছে হইহই করে ঠাকুর দেখার আনন্দ। চারদিনে ক’টা ঠাকুর দেখল, সেই হিসেব করতে ব্যস্ত থাকে খুদে। আগের বছরের তুলনায় এবছর ঠাকুর দেখার সংখ্যা যেন বেশি হয়, সে নিয়েও বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মশগুল থাকে শৈশব। আর কমপ্লেক্সের পুজোয় দৌড়োদৌড়ি করে কেটে যায় সময়। পাজামা-পাঞ্জাবি হোক বা শার্ট-প্যান্ট— সবরকম পোশাকে স্বচ্ছন্দ ধৃতিষ্মান। এখানে সে পরেছে একটি পিঙ্করঙা ডিজাইনার পাঞ্জাবি। হাতির মোটিফ রয়েছে সারা গায়ে। সাদা পাজামা দিয়ে টিমআপ করা হয়েছে। সেদিন স্কুলের পর সোজা ফোটোশ্যুটে এসেছিল ধৃতিষ্মান। বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এসেই চটপট তৈরি হয়ে নিল। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক পোজ দিচ্ছে ধৃতিষ্মান। ক্লান্তিহীন তার অভিব্যক্তি। উকুলেলে বাজিয়ে নিচ্ছে মাঝেমধ্যে। চশমায় আলো রিফ্লেক্ট হচ্ছে বললে নিজে নিজেই চমৎকার অ্যাডজাস্ট করে নিতে শিখেছে সে। ফোটোশ্যুটের মধ্যে আলাপ জমানোর চেষ্টা করল টিম চতুষ্পর্ণী। পুজো আসছে। মা দুগ্গার কাছে কী চাইবে? মুখে দুষ্টুমির হাসি মেখে জানিয়ে দিল, সেটা সিক্রেট। আরও একটা লুক হবে ধৃতিষ্মানের। দৌড়ে তৈরি হতে চলে গেল এই খুদে মডেল।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য
পুজোর জন্য চতুষ্পর্ণীর স্পেশাল ফোটোশ্যুট। তাই ধৃতিষ্মানের দুটো লুকই পাঞ্জাবিতে তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় লুকে ধৃতিষ্মানের পরনে লাল রঙের পাঞ্জাবি। তাতে সুতো দিয়ে সাবেকি নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ঘিয়ে রঙের পাজামা দিয়ে পরেছে সে। চশমা পরে মুখে দুষ্টুমির হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে ধৃতিষ্মান। ‘হাতটা কোমরে রাখব? ভালো লাগবে?’— প্রশ্ন শুনে ইউনিটে উঠল হাসির রোল। এই ধরনের পাঞ্জাবির লুক আপনার বাড়ির কনিষ্ঠ সদস্যকেও পরাতে পারেন পুজোর দিন। উপহারে কিনে দিতে পারেন এমন ঐতিহ্যবাহী পোশাক। দুর্গাপুজোর চারদিন খুদের ফ্যাশনও জমে উঠবে।
পোশাক: কে সি দাশ ফ্যাশন
যোগাযোগ: ৮২৪০১১৭৭৪৬
মেকআপ ও হেয়ার: সুমিত সামন্ত
ছবি: উজ্জয়িনী ঘোষ
লোকেশন: দ্য স্ট্যাডেল
যোগাযোগ: ৮১০০৮৪৮৫৬৯
সহযোগিতায়: চাওম্যান