নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আরামবাগ কলকাতা রাস্তার মাঝে জয়রামপুর থেকে মায়াপুরে সম্প্রসারণের কাজে হাত দিল পূর্তদপ্তর। প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রাস্তা চওড়া করতে প্রয়োজন জমির। তাই পূর্তদপ্তরের জায়গায় থাকা ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার জেরে কেউ কেউ চিন্তায় পড়েছেন।
পূর্তদপ্তরের আরামবাগ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নিখিলেশ দে বলেন, রাস্তাটি অতিরিক্ত দেড় মিটার সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমান রাস্তার শেষ অংশ থেকে চার মিটার পর্যন্ত জমি প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই জয়রামপুরের দিকের অংশে কাজ শুরু করা হয়েছে। বলরামপুর থেকে মায়াপুর পর্যন্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে তাঁরা যেন দ্রুত দখল মুক্ত করেন। এব্যাপারে এলাকায় মাইকিংও করা হবে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কয়েক আগে আরামবাগে বাসুদেবপুর মোড় থেকে চাঁপাডাঙা পর্যন্ত অংশ ফোর লেন করা হয়। ওই ফোর লেন দিয়েই তারকেশ্বর, কলকাতায় যাওয়া যায়। কিন্তু, জমি জটের কারণে আরামবাগের জয়রামপুর থেকে মায়াপুর পর্যন্ত অংশ ফোর লেন হয়নি। সেখানে দুই লেন দিয়েই যান চলাচল করে। ফোর লেনের মাঝের ওই অংশ যথেষ্ট জনবহুল। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তার বেশিরভাগ অংশ বেহাল হয়ে রয়েছে। বর্ষায় কার্যত পুকুর সমান বৃষ্টির জল জমে থাকছে। বৃষ্টি না হলে ধুলোর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এমনকী, যান চলাচলেও ব্যাপক সমস্যা হয়। অনেক সময় যানজট লেগে যায়। তারসঙ্গে যাত্রীদেরও ধুলোয় জেরবার হতে হয়। নাকে মুখে রুমাল চেপে অনেক সময় যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটির আমূল সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সড়ক পথে কলকাতা থেকে আরামবাগ হয়ে কামারপুকুরে যান। সেইজন্য রাস্তার ওই অংশ দ্রুত মেরামতি করা হয়। কিন্তু, কয়েকদিনের মধ্যেই ফের তা বেহাল হয়ে যায়।
পূর্তদপ্তরের অবশ্য দাবি, নিয়মিত ওই রাস্তার উপর মেরামতির কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতিও হয়েছে। কিন্তু, বর্ষায় বৃষ্টির জেরে রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ছে। এবার তা নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। বর্ষা মিটলে পিচের কাজ করা হবে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই রাস্তার উপর ৮৫-র বেশি দোকান পূর্তদপ্তরের জমির একাংশে রয়েছে। ফলে রাস্তা সম্প্রসারণ করতে তাদের সরতে হবে। বিষয়টি ব্যবসায়ীদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণ ও দৃঢ়করণ করার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তারমধ্যে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজও হবে।
মায়াপুর সংলগ্ন এলাকার এক মৃৎশিল্পী কৌশিক দাস বলেন, সম্প্রতি পূর্তদপ্তরের তরফে আমার দোকান পিছনে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দুর্গাপুজোর প্রতিমা গড়ার কাজ করছি। পুজোর আগে সেইসব প্রতিমা সরানো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। -নিজস্ব চিত্র