সংবাদদাতা, কাঁথি: পটাশপুর থানার পঁচেট এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় দীপঙ্কর গিরিকে(৩২) গলা কেটে খুনের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। অভিযুক্ত তাপস মাইতিকে মহারাষ্ট্রের জলগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি পঁচেট দক্ষিণপাড়া এলাকায়। ধৃত যুবক খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিসের দাবি। বৃহস্পতিবার তাকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তদন্তের স্বার্থে ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ওসি সুরজ আশ বলেন, বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর রাতে স্ত্রী লক্ষ্মীরানি গিরির সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন দীপঙ্কর। সেই সময় দরজা খুলে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়। তবে পাশে শুয়ে থাকলেও লক্ষ্মী কেন টের পেলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার পর মৃতের মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, দীপঙ্করের বর্তমান স্ত্রী লক্ষ্মী হলেন তাপসেরই প্রাক্তন স্ত্রী। বনিবনা না হওয়ায় তাপসকে ছেড়ে দীপঙ্করকে বিয়ে করেছিলেন লক্ষ্মী। তবে ইদানীং লক্ষ্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছিল তাপসের। লক্ষ্মীকে নিয়ে টানাপোড়েনে দীপঙ্কর ও তাপস পরস্পরকে হুমকি দিতে শুরু করে। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝামেলা বাধে। শেষ পর্যন্ত দীপঙ্করকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তাপস। সেইমতো ২৫ নভেম্বর রাতে দীপঙ্করের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ছুরি দিয়ে গলার নলি কেটে খুন করে পালায় তাপস। তারপর মহারাষ্ট্রে গিয়ে একটি হোটেলে কাজ করছিল। পুলিসের একটি টিম মহারাষ্ট্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে বুধবার পটাশপুরে নিয়ে আসে।



