পিএসজি- ২ : আর্সেনাল- ১
(দু’লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে
জয়ী পিএসজি)
পিএসজি- ২ : আর্সেনাল- ১
(দু’লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে
জয়ী পিএসজি)
প্যারিস: ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, পিএসজি প্যারিসে।’ গত কয়েক বছর একাধিকবার এমনই কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে ফরাসি ক্লাবটিকে। এমনকী, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে লিগ ওয়ানকে ‘কৃষক লিগ’ বলেই মন্তব্য করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাবে গত এক দশকে ফরাসি লিগে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছে পিএসজি। তবে ইউরোপিয়ান সার্কিটে বারবার তাদের মুখ থুবড়ে পড়েছে। কর্ণধার নাসের আল-খেলাফি টাকার থলি নিয়ে বিশ্বের একের পর এক তারকা ফুটবলারকে দলে নিয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়েছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতা যায়, টুর্নামেন্ট নয়— সেটা বারবার পিএসজি’র খেলাতে প্রমাণিত। তাই চলতি মরশুমে ব্যক্তি নয়, পারফরম্যান্সের উপর জোর দিয়েছিলেন কোচ লুই এনরিকে। আর তাতেই একের পর এক বাধা অতিক্রম করে ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছল পিএসজি। সেমি-ফাইনালের লড়াইয়ে আর্সেনালকে দু’লেগেই হারাল তারা। বুধবার ঘরের মাঠে পিএসজি জিতল ২-১ ব্যবধানে। দু’লেগ মিলিয়ে ব্যবধান ৩-১। পিএসজি’র হয়ে গোল ফাবিয়ান রুইজ ও আচরাফ হাকিমির। আর্সেনালের একমাত্র গোলটি বুকায়ো সাকার। আগামী ৩১ মে মিউনিখে খেতাবি লড়াইয়ে ইন্তার মিলানের মুখোমুখি হবে পিএসজি।
চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি পিএসজি’র। গ্রুপ পর্বে একের পর এক ম্যাচ হেরে শুরুতেই বিদায়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল তাদের। শেষ দু’টি ম্যাচ জিতে কোনওক্রমে প্লে-অফের যোগ্যতা অর্জন করে তারা। তবে নক-আউটে পা রাখতেই পুরোপুরি ভিন্ন মেজাজে ধরা দেন ভিতিনহা-নুনো মেন্ডিজরা। বুধবার ঘরের মাঠেও সেই ছন্দ বজায় রাখাই লক্ষ্য ছিল কোচ এনরিকের। পক্ষান্তরে, ঘরের মাঠে হারের ধাক্কা কাটিয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ছিল আর্সেনাল। তবে এদিন আরও একবার তিনকাঠির নিচে অনবদ্য পারফরম্যান্স মেলে ধরলেন পিএসজি গোলরক্ষক ডোনারুমা। কার্যত তার সামনেই থমকে যায় আর্সেনালের যাবতীয় প্রয়াস। ২১ মিনিটে খিচা কাবারাস্কেইয়ার শট পোস্টে লাগে। তবে লিড নিতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি পিএসজিকে। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁপায়ের দুরন্ত শটে জাল কাঁপান এই স্প্যানিশ মিডিও (১-০)। এরপর ৬৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় পিএসজি। তবে স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ ভিতিনহা। যদিও ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান হাকিমি। দ্রুত আক্রমণে উঠে আসা এই মরক্কান ডিফেন্ডার চকিত শটে বল জালে জড়ান (২-০)। দু’লেগ মিলিয়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত জেনেও শেষ প্রয়াস চালায় আর্সেনাল। ৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমান বুকায়ো সাকা (২-১)। এরপর অবশ্য রক্ষণ জমাট রেখে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পিএসজি।
দলকে ফাইনালে তুলে সমালোচকদের একহাত নিলেন পিএসজি কোচ এনরিকে। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিই কৃষক লিগ থেকে উঠে এসেছি। তাই তো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা চারটি দলকে হারিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে জেতার জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রমের প্রয়োজন, তা একজন কৃষকই করতে পারে।’