নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’বছর আগে এএফসি চ্যাম্পিন্স লিগ টু-এর বাছাই পর্বে তাঁর গোলেই লিড নিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তুর্কমেনিস্তানের আলতেন আসের এফসি’র কাছে হেরে মাঠ ছেড়েছিল মশাল বাহিনী। তবে বুধবার কুয়েতের আল আরবির বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রথমবারের জন্য টুর্নামেন্টের মূলপর্বের যোগ্যতা অর্জন করে হাবাস-ব্রিগেড। এবার পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমে গোল করে ও করিয়ে দলের জয়ের অন্যতম কারিগর ডেভিড লালহানসাঙ্গা। বিদেশি দলের বিরুদ্ধে তাঁর এই পারফরম্যান্স রাতারাতি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। মিজো ফরোয়ার্ড অবশ্য সেই জোয়ারে গা ভাসাতে নারাজ। বুধবার একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘বর্তমান’কে অনেক কথাই বললেন সুপার-সাব ডেভিড।
প্রশ্ন: দু’বছর আগে এই যুবভারতী থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। বুধবার পিছিয়ে পড়ার পর কী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন?
ডেভিড: কখনোই না। আমাদের আত্মবিশ্বাস অটুট ছিল। শুরু থেকেই দল পরিকল্পিত ফুটবল মেলে ধরেছে। কোচের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই ছিল লক্ষ্য। তাই শেষ পর্যন্ত আমরা ম্যাচ জিতেছি।
প্রশ্ন: বুধবারের গোল কাকে উৎসর্গ করবেন?
ডেভিড: আমার ফুটবলার হওয়ার নেপথ্যে মায়ের অবদান অনেক। তাঁকেই এই গোল উৎসর্গ করছি।
প্রশ্ন: বিদেশি দলের বিরুদ্ধে খেলাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
ডেভিড: কোনো প্রতিপক্ষই সহজ নয়। তারউপর বিপক্ষ দলের প্রায় প্রতিটি ফুটবলারের উচ্চতা বেশি ছিল। তাই তাদের কাটিয়ে গোল করতে পেরে আলাদা তৃপ্তি পেয়েছি।
প্রশ্ন: ম্যাচের পর কোচ হাবাসের সঙ্গে কি কথা হয়েছে?
ডেভিড: ডুরান্ড কাপের ম্যাচে বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলাম। তাই মাঠে নামার মুহূর্তে কোচ বারবার বলেন, মাথা ঠান্ডা রাখতে। সেই চেষ্টা করেছিলাম। এমনকি, চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে নিজে শট না নিয়ে দানুকে বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কোচের পরামর্শ কাজে দিয়েছে।
প্রশ্ন: কলকাতা ময়দানে ডেভিডের উত্থান বেশ চমকপ্রদ। তবে গত কয়েক বছর সেভাবে ছন্দে দেখা যায়নি। নিয়মিত সুযোগ না মেলায় কি কোথাও এই ছন্দপতন?
ডেভিড: মনে হয় না, আমি কখনো হারিয়ে গিয়েছি। সুযোগ পেলেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখছি। তাছাড়া কোচ হাবাস সবসময় জুনিয়র ফুটবলারদের উদ্দীপ্ত করে চলেছেন। ওঁর মতো টপ ক্লাস কোচের প্রশিক্ষণে খেলতে পেরে আমি সত্যিই ভাগ্যবান।