শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলের মিসাইল ম্যান। মহম্মদ রশিদের বিস্ময় গোলে লাল-হলুদ সম্মোহিত। আল আরবি ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা পরেও তা নিয়ে প্রবল চর্চা। মুচকি হেসে প্যালেস্তাইন ফুটবলারের মন্তব্য, ‘আমরা দলের সৈনিক। প্রতি ম্যাচেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে এই গোলটা বাড়তি তৃপ্তি দিয়েছে।’ আসলে রশিদ শুধু জাল কাঁপাননি। তাতে আল আরবির ভিতও নড়েছে।
আগস্ট মাস রশিদের কাছে অভিশপ্ত। গত বছর ডুরান্ড কাপ ডার্বির আগেই বিপর্যয় নেমে আসে পারিবারিক জীবনে।। হঠাৎ করেই বাবার প্রয়াণ। দ্রুত দেশে ফিরতে হয় প্যালেস্তাইনের ফুটবলারকে। আল আরবি ম্যাচের গোল বাবাকেই উৎসর্গ করলেন রশিদ। ছলছল চোখে মিডফিল্ড জেনারেলের মন্তব্য, ‘জানেন, দেখতে দেখতে এক বছর পেরিয়ে গেল। বাবা জীবিত থাকলে দারুণ খুশি হতেন। কিন্তু জানি, তাঁর আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই থাকে। কেরিয়ারে অন্যতম সেরা গোল বাবাকে উৎসর্গ করতে চাই।’ কথার মাঝেই বেশ উদাস হয়ে পড়লেন রশিদ। পেশাদারি বর্মের আড়ালেও বাবার জন্য আকুল হয় মন। দেশ থেকে বহুদূরে এখন ইস্ট বেঙ্গলই তাঁর পরিবার। কাঁটাতারের খোঁচায় হয়তো নিজের যন্ত্রণা উপলব্ধি করেন প্যালেস্টাইন মিডিও। জ্বলন্ত মশাল এবং লাল-হলুদ জনতার আবেগ তাঁর অনুপ্রেরণা। বললেন, ‘দর্শকরাই দলের দ্বাদশ ব্যক্তি। একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে টিম ইস্ট বেঙ্গল। কলকাতায় আসার পর এত ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। ভরসা রাখুন, ওদের হতাশ করব না।’ একটু দম নিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘ইস্ট বেঙ্গলে আমি খুশি। ভীষণ খুশি। দলের পরিবেশই আলাদা।’
চলতি মরশুমে রশিদ অনেক ঝকঝকে। ওয়ার্কলোডের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউশন নজরকাড়া। গত বছর যেখানে শেষ করেছেন, এবার যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন তিনি। তবে প্রশংসায় ভেসে যাওয়ার বান্দা নন তিনি। বরং আত্মসমালোচনায় বিশ্বাসী। রশিদ বললেন, ‘কঠিন পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিমার্জন করুরি। বাকি সাফল্য নির্ভর করে কোচ ও কোচিং স্টাফেদের উপর।’ আল আরবিকে হারিয়ে মরশুমের শুরুতেই মশালের আগুনে গনগনে আঁচ। রশিদের বিশ্বাস, এই তিন পয়েন্ট বাকি ম্যাচে এক সিলিন্ডার আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বললেন, ‘কঠিন ম্যাচ জেতার তৃপ্তিই আলাদা। সাফল্য পাওয়া কঠিন। তা ধরে রাখা আরও শক্ত। তবে নিশ্চিতভাবেই ফুটবলারদের কনফিডেন্স বাড়বে অনেকটাই।’