Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারক শিক্ষকের রাতারাতি ট্রান্সফার

প্রতারক শিক্ষকের রাতারাতি ট্রান্সফার
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণায় নাম জড়ানো শিক্ষকের রাতারাতি বাড়ির কাছে বদলি ঘিরে তোলপাড় কাঁথি-৩ ব্লক। ওই ব্লকের জুখিভেড়ি প্রাইমারি স্কুলের সহ শিক্ষক রঞ্জন সরকার গত বছরের ২৫ জুন থেকে টানা ছ’মাস স্কুলেই যাননি। আচমকা গত ৯ জানুয়ারি তাঁকে ভূপতিনগর থানার মানিকজোড় প্রাইমারি স্কুলে বদলি করা হয়। ওই শিক্ষকের বাড়ি মানিকজোড় গ্রামেই। এমনকি ওই শিক্ষকের বদলির এনওসি আদায় করতে জুখিভেড়ি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মীরান্ডা মাহাত মাইতিকে এস আই অফিসে তলব করা হয়। এরপর গত ৯ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষিকা এসআই অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিনই তাঁর স্কুলের শিক্ষক রঞ্জন সরকার মানিকজোড় স্কুলে জয়েন করেছেন। প্রধান শিক্ষিকার এনওসি ছাড়াই কীভাবে ওই শিক্ষক স্কুল ছাড়লেন, এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন মীরান্ডাদেবী। এরপর প্রধান শিক্ষিকা এনওসি না দিয়েই চলে আসেন।
Advertisement
এবিষয়ে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের নেতা শিবশঙ্কর ঘোরাই বলেন, এই বদলিতে সরকারি যাবতীয় নিয়ম ভাঙা হয়েছে। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছি।
‘এসডিএফএক্স গ্লোবাল মানিটারি অর্গানাইজেশন’ নামে একটি সংস্থা খুলে কয়েকজন শিক্ষক কাঁথি-৩ ব্লকে বিভিন্ন জনের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলেন বলে অভিযোগ। শেয়ার মার্কেটে ওই টাকা বিনিয়োগ করে মাসে আট শতাংশ সুদের টোপ দেওয়া হয়েছিল। টাকা রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেশি করে টার্গেট করা হয়। ওই ঘটনায় রঞ্জন সরকার, দীপক পাত্রের মতো কয়েকজন শিক্ষক জড়িত বলে অভিযোগ। কাঁথি থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগও হয়েছে। প্রতারণার ঘটনা জানাজানি হতেই গত বছরের ২৫ জুন থেকে ওই শিক্ষক স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মীরান্ডাদেবীর পরিবারও ১৩ লক্ষ টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। এরকম আরও অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতারিত হয়েছেন। কাঁথি উত্তর এসআই অফিসের কর্মী দেবাশিস প্রধান সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা রেখে প্রতারিত।
ঝামেলার আশঙ্কায় ওই শিক্ষক ছ’মাস স্কুলেই যায়নি। এরমধ্যেই তিনি বদলির জন্য তদ্বির শুরু করেন। ওই কথা জানতে পেরে একঝাঁক শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁর বদলি আটকানোর জন্য জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ অফিসে চিঠি দেন। আশ্চর্যের বিষয়, ওই চিঠি উপেক্ষা করেই  তাঁর বদলি হয়। জুখিভেড়ি প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৯। সেখানে তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। আর, মানিকজোড় প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৩। রঞ্জনবাবু সেখানে যোগ দেওয়ার পর সেখানে শিক্ষকের সংখ্যা হল তিনজন। অর্থাৎ বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলে শিক্ষককে তুলে দিয়ে কম ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলে বদলি করা হল। প্রতারিত শিক্ষকদের দাবি, জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ অফিসকে ম্যানেজ করেই এই বদলি হয়েছে। প্রতারণায় নাম জড়ানো এক শিক্ষককে কেন এভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হল তানিয়ে শিক্ষক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। জুখিভেড়ি প্রাইমারির প্রধান শিক্ষিকা বলেন, এনওসি নেওয়ার জন্য এসআই অফিসের দু’জন কর্মী আমাকে অফিসে তলব করেছিলেন। তাঁদের লিখে দেওয়া বয়ানে সই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি সেই নির্দেশ মানিনি। এনওসি দিইনি। কারণ আগেই তাঁর বদলি আটকানোর জন্য আমরা প্রতারিত শিক্ষক শিক্ষিকারা জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল অফিসে চিঠি দিয়েছি। তারপরও রঞ্জনবাবু নিজের গ্রামের স্কুলে বদলি হলেন। জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনেই ওই শিক্ষকের বদলি হয়েছে। রঞ্জনবাবুকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের জবাবও দেননি।
 
সম্পর্কিত সংবাদ