Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিএলওর ডিউটিতেও প্রক্সি! হাতেনাতে ধরা পড়ল যুবক

বিএলওর ডিউটিতেও প্রক্সি। কোথাও মায়ের হয়ে কাজ করছেন ছেলে। কোথাও আবার স্ত্রীর হয়ে স্বামী বাড়ি বাড়ি ঘুরে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করছেন।

বিএলওর ডিউটিতেও প্রক্সি! হাতেনাতে ধরা পড়ল যুবক
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিএলওর ডিউটিতেও প্রক্সি। কোথাও মায়ের হয়ে কাজ করছেন ছেলে। কোথাও আবার স্ত্রীর হয়ে স্বামী বাড়ি বাড়ি ঘুরে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে নলহাটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণ্ডগোল বাঁধে। সেখানে বিএলওর হয়ে কাজ করছিলেন তাঁর ছেলে। যার প্রতিবাদ করেন এলাকার ভোটাররা। শুধু কাজ নয়, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিযুক্ত না হয়েও নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বিএলও অ্যাপে লগ ইন করছেন ওই যুবক। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রক্সি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার ভোটাররা। যদিও ওই যুবকের দাবি, বিডিও এবং নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দেশে তিনি মায়ের হয়ে কাজ করছেন। যদিও নলহাটি ১ ব্লকের বিডিও তথা এআরও সৌরভ মেহেতা বলেন, বিএলওর কাজ অন্য কেউ করতে পারেন না। যার কাজ তাঁকেই করতে হবে। ওই যুবক মিথ্যা কথা বলছেন। বিষয়টি দেখে নিচ্ছি। 

Advertisement

মঙ্গলবার থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া শুরু করেছে বিএলওরা। নলহাটি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭১ নম্বর পার্টের বিএলও লাভলি ইয়াসমিন। তিনি ওই ওয়ার্ডের অঙ্গনওয়ারি কর্মী। কিন্তু অভিযোগ, লাভলির হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন তাঁর ছেলে জাহাঙ্গির আলম। বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গির বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিজের মোবাইল দিয়ে ইনিউমারেশন ফর্মে থাকা বারকোড স্ক্যান করে ভোটারদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিএলওর বদলে অন্য লোককে ফর্ম বিলি করা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তাঁরা ধন্দে পড়েন। সরব হন এলাকার ভোটাররা। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার শেখ বলেন, যিনি ফর্ম বিলি করছেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। সরকারি কর্মীও নন। তাঁর মা বিএলও। অথচ তিনি মায়ের হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন। যদিও জাহাঙ্গির আলম বলেন, মা বিএলও ঠিকই। কিন্তু আমিও মায়ের সঙ্গে বিএলওর ট্রেনিং নিয়েছি। আমার এবং মায়ের মোবাইল নম্বর রেজিস্ট্রেশন করা আছে। সেই মতো আমার নম্বর দিয়ে বিএলও অ্যাপে লগ ইন করে ফর্ম বিলি করছি। মা অসুস্থ থাকায় আমি তাঁর হয়ে কাজ করছি। তাঁর আরও দাবি, বিডিও এবং ব্লকের এসআইআরের কাজে নিযুক্ত নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশেই কাজ করছি। আমি যেহেতু সাইবার ক্যাফে চালাই, তাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন ব্লকের কর্তারা। বিএলওর সব কাজই আমাকে করতে হয়। মা যতই শিক্ষিত হন না কেন, এই অ্যাপের খুঁটিনাটি বুঝতে পারবেন না। যত অঙ্গনওয়ারি কর্মী আছেন, তাঁদের স্বামী না হয় ছেলে কাজ করছেন। অনেকে না বুঝে বাধা দিচ্ছে। তাছাড়া এসআইআর সাধারণ ব্যাপার। সর্বোপরি আধিকারিকদের কারও আপত্তি নেই। 
অন্যদিকে লাভলি ইয়াসমিন বলেন, ছেলে আমার সঙ্গে সব ট্রেনিং নিয়েছে। আমার হাঁটাচলা করতে অসুবিধে হয়। নার্ভের সমস্যা আছে। তাই আমার হয়ে কাজ করছে ছেলে। সব জেনেশুনেই আমাকে বিএলও হিসাবে নিয়োগ করেছেন প্রশাসনের কর্তারা। বিএলও অ্যাপও লগ ইন করছে ছেলে। 
আর এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, আম জনতা হয়ে কী করে বিএলও অ্যাপ লগ ইন করতে পারেন? কীভাবেই বা তিনি সরকারি ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারেন। তাঁরা এসআইআরের কাজের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, যিনি বিএলও তাঁকেই কাজ করতে হবে। তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়েই অ্যাপ লগ ইন হবে। তাঁর হয়ে অন্য কেউ কাজ করতে পারেন না। বিষয়টি এখনই দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।  • ভুয়ো বিএলও। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ