সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে রোগীমৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানো হল। মঙ্গলবার সকালে এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত এনামুল শেখের(৬১) বাড়ি জঙ্গিপুর পুরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকালিয়াতে। এদিন সকালে তাঁর পরিবারের লোকজন ও পড়শিরা মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর মৃতের পরিবার দেহ নিয়ে ফিরে যায়।
মৃতের পরিবারের দাবি, রোগীকে আইসিইউ বেড দেওয়া হয়নি। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলেও কেউ তাঁকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাও করেনি। এমনকী, পরিস্থিতির অবনতি হলে রেফার লিখেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মৌখিকভাবে কিছু বলাও হয়নি। রোগীর মৃত্যুর পর বারবার তাড়াতাড়ি দেহ নিয়ে যেতে বলা হচ্ছিল। তাঁরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে হাসপাতালের সুপার কাশীনাথ পাঁজা বলেন, আইসিইউ বেড ফাঁকা থাকলে প্রয়োজনে রোগীকে বেড দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কী ঘটেছে-তা খোঁজ নিয়ে দেখব।
শনিবার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে এনামুল শেখকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টের কারণে ওইদিনই তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে বেড ফাঁকা না থাকায় তিনি জেনারেল বেডেই ছিলেন। এদিন সকালে তিনি কথাবার্তা বলেছেন। নিজে শৌচাগারেও গিয়েছিলেন। কিন্তু শৌচাগার থেকে আর ফিরে আসতে পারছিলেন না। তারপর থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এরপরই মৃতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এলাকার লোকজনও হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা চিকিৎসক ও নার্সদের শাস্তির দাবি তোলেন।
মৃতের মেয়ে ইয়াসমিন খাতুন এদিন হাসপাতালের ওয়ার্ডেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বাবা সকালে ভালোই ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। বিষয়টি নার্স দিদিদের জানালে ডাক্তারবাবু আসেন। ইনজেকশন দেওয়ার আধঘণ্টা পরেই বাবা মারা যায়। ডাক্তার বলছে, আগেই নাকি মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানলে তবে তো মেডিকেলে নিয়ে যাব। আমাদের মৌখিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।