সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রেশন সামগ্রী কম দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরে। শুক্রবার আচমকা পরিদর্শনে এসে ডিলারকে হাতেনাতে ধরল মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া মনিটারিং কমিটি। তাঁদের সামনেই ডিলারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা। তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিডিওর কাছে সুপারিশ করেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মা।
বিভিন্ন এলাকা থেকে রেশনসামগ্রী ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ আসছে মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির কাছে। সেইমতো সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষকে রেখে একটি মনিটারিং টিম গঠন করেছে সমিতি। তাঁরা দু’দিন ধরে রেশন দোকানগুলি ঘুরে দেখছেন। জানা গিয়েছে, মুরারই -১ ব্লকে ৪৬টি রেশন ডিলার রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত সাতটি দোকান ওই কমিটি পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন আচমকা খানপুর গ্রামে রেশন দোকানে আসেন তাঁরা। উপভোক্তারা সেই টিমের সামনেই ডিলারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দমতো সামগ্রী দেওয়া হয় না। চাল, আটা সবেতেই ওজনে কম দেওয়া হয়। টিমের সদস্যরা গ্রাহকদের দেওয়া চাল, আটা মেপে দেখেন, অভিযোগ সঠিক। কোনও স্টক রেজিস্টার নেই। খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সালেহা খাতুন বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি বরাদ্দমতো রেশন সামগ্রী পায় তার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কিছু ডিলার গরিব মানুষের প্রাপ্য রেশন দেওয়ার সময় কারচুপি করছেন। আমাদের সাফ কথা, মানুষকে তাঁর পাপ্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এদিন টিমের সদস্যরা ঘুরে এসে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা দেন। সভাপতি বলেন, খানপুরের ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ পেয়েছেন মনিটারিং টিমের সদস্যরা। তাঁরা রিপোর্ট আকারে সেটা জানিয়েছেন। সেইমতো তদন্ত করে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিডিওকে অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও রেশন ডিলার রাফিয়া খাতুনের ছেলে আনারুল ইসলাম বলেন, ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কম্পিউটার কাঁটায় মেপে সামগ্রী দিই। মানুষের ধারণা হয়ে গিয়েছে আমরা কম দিচ্ছি। বিডিও বীরেন্দর অধিকারী বলেন, মানুষ যাতে সঠিক পরিষেবা পান সেটা নিশ্চিত করতেই মনিটারিং টিম করা হয়েছে। খানপুরের ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি খাদ্যদপ্তরকে জানানো হয়েছে।