নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: টিকিট কেটেও দীঘাগামী লোকালে উঠতে না পেরে বৃহস্পতিবার একাধিক স্টেশনে বিক্ষোভ দেখালেন যাত্রীরা। শহিদ মাতঙ্গিনী, তমলুক, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ সহ বিভিন্ন স্টেশনে টিকিট কাটার পরও সব যাত্রী উঠতে পারেননি। নন্দকুমার স্টেশনে তুমুল ঝামেলা হয়। লোকালে চাপতে না পারা যাত্রীরা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসে তাঁদের দীঘা যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে স্টেশন মাস্টারের উপর চাপ বাড়ান। শেষমেশ খড়্গপুর কন্ট্রোল রুম থেকে পারমিশন করিয়ে পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসকে নন্দকুমার স্টেশনে দাঁড় করানো হয়। যদিও তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস নন্দকুমার স্টেশনে স্টপেজ দেয় না। তবে, এদিন লোকালের টিকিট কেটে ৭০ জন এক্সপ্রেসে উঠে দীঘা রওনা দেন।
দোল এবং ঈদের ছুটি থেকেই দীঘাগামী যাত্রীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। দূরবর্তী এলাকার যাত্রীদের বেশিরভাগই রেলপথে যাতায়াতে পছন্দ করছেন। বেশিরভাগ পর্যটক দীঘার যাওয়ার জন্য সকালের ট্রেন বেছে নেন। সেজন্য সকাল ৮টার লোকাল বেশিরভাগ সময় ভিড়ে ঠাসা থাকে। তবে, ঈদের ছুটি থেকে সেই ভিড় আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মেচেদা-দীঘা লোকাল পাঁশকুড়া স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই একেবারে হাউসফুল অবস্থা। দীঘা যাওয়ার পথে শহিদ মাতঙ্গিনী, তমলুক, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ, দেশপ্রাণ প্রভৃতি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছনোর আগেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গেটের কাছে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
লবণ সত্যাগ্রহ স্টেশনে প্রায় দেড়শো জন যাত্রী টিকিট কাটেন। মেরে কেটে ৫০ জন ট্রেনে চাপতে পারেন। বাকিরা টিকিট কাউন্টারের সামনে ক্ষোভ, বিক্ষোভ দেখিয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু নন্দুকমার স্টেশনে টিকিট কেটে লোকালে চাপতে না পারা যাত্রীরা বাড়ি ফিরে যেতে নারাজ। তাঁরা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসে দীঘায় যাবেন বলে স্টেশন মাস্টারকে সাফ জানান। কিন্তু, ওই এক্সপ্রেস নন্দকুমার স্টেশনে স্টপেজ দেয় না। এই অবস্থায় স্টেশন মাস্টার এসকে বিশ্বাস খড়্গপুর কন্ট্রোলরুমে বিষয়টি জানান। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসকে নন্দকুমারে স্টপেজ দেওয়ার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। প্রায় ৭০ জন যাত্রী এক্সপ্রেসে চেপে দীঘায় রওনা হন।
সকালে পাঁশকুড়া থেকে দীঘাগামী আরও একটি লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে পাঁশকুড়া হলদিয়া দীঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি কাঁথির সাংসদও দীঘা-পাঁশকুড়া লাইনে এক জোড়া লোকাল চালানোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
২০১৯ সাল থেকেই পাঁশকুড়া-দীঘা লাইনে চার জোড়া লোকাল চলছে। তারপর থেকে যাত্রী বাড়লেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি। হাওড়া থেকে দীঘা যাতায়াতের জন্য তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস প্রায়ই দেরিতে চলছে। সপ্তাহে পাঁচদিন পুনঃনির্ধারিত করে টাইম পরিবর্তন করা হচ্ছে। বুধবার ওই এক্সপ্রেস পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলেছে। একদিকে, ট্রেনের অপ্রতুলতা, অপরদিকে অস্বাভাবিক দেরিতে চলার কারণে রেল পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
লবণ সত্যাগ্রহ স্টেশনের টিকিট বুকিং এজেন্ট ভরতচন্দ্র দাস বলেন, সকালে দীঘা যাওয়ার টিকিট কেটে অনেক যাত্রী ভিড়ের জন্য ট্রেনে উঠতে পারছেন না। আমরা টিকিট কাটার সময় বলেও দিচ্ছি, ট্রেনে প্রচুর ভিড় হবে। বিক্রিত টিকিট আর ফেরত হবে না। তারপরও ট্রেনে ওঠতে না পেরে যাত্রীরা ক্ষোভ, বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।