সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া একটি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতার নাম মৌসুমি খাতুন(২৫)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার কাশিয়াডাঙা পঞ্চায়েতের দিঘিরপাড় গ্রামে। মৃতার পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার জেরে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার তাঁরা মৃতদেহ নিয়ে নার্সিংহোম চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। ওই চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি তোলেন। যদিও নার্সিংহোমের মালিক ও বেশিরভাগ কর্মী আগাম খবর পেয়ে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে জঙ্গিপুর ফাঁড়ির পুলিস পৌঁছে মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পুলিসের আশ্বাসে তাঁরা মৃতদেহ নিয়ে যান। মৃতার পরিবারের সদস্যরা জানান, এর সঠিক বিচার না হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।
জঙ্গিপুর ফাঁড়ির পুলিস জানিয়েছে, রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের কী অভিযোগ বা দাবি রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তার আগে মৃতদেহের সৎকার হোক।
প্রায় মাসখানেক আগে মৌসুমি খাতুন প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ানে তিনি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। সপ্তাহখানেক পর ওই প্রসূতিকে নার্সিংহোম থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বাড়ি ফেরার পর মৌসুমি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর জ্বর ও পেটে যন্ত্রণা দেখা দেয়। পরিবারের তরফে তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চলে। ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার ভোর ৫টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৌসুমির মৃত্যুর পরেই ওই নার্সিংহোমের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এদিন দুপুরে বহরমপুর থেকে মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ওই নার্সিংহোমে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। মৃতার বাবা সাকিম শেখ বলেন, মেয়েকে মেডিক্যালে নিয়ে গিয়েছিলাম। মেডিক্যালের চিকিৎসক বলেছেন, মেয়ের ভুল চিকিৎসা হয়েছে। তার জেরেই মেয়ের পেটে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল।
ওই নার্সিংহোমের আধিকারিক আব্দুল খলিল বলেন, সফলভাবে সিজারের পর ওই প্রসূতি সুস্থ হলে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। একমাস পর ওরা এসে দাবি করছে, ভুল চিকিৎসা হয়েছে। ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে প্রসূতির এতদিন বাঁচার কথা নয়। তাঁর অন্য কোনও সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। -নিজস্ব চিত্র