সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের ময়রাপুকুরে বর্গাদার উচ্ছেদ করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়া হচ্ছে। এই অভিযোগে মঙ্গলবার তির, ধনুক নিয়ে জমি চাষ করতে নামলেন আদিবাসী মহিলারা। কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা বাধে। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিস পরিস্থিতি সামাল দেয়।
স্থানীয় ঘুটবন গ্রামের বাসিন্দা পার্বতী মুর্মু বলেন, আমরা বহু বছর ধরে ময়রাপুকুর মৌজায় প্রায় ১০বিঘা জমিতে চাষ করে আসছি। কিন্তু, স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মেডিক্যাল কলেজ গড়ার জন্য আমাদের বর্গাদার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। আমাদের জমি সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চাষ করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে সরকারি সমস্ত দপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু, সুরাহা না হওয়ায় আমরা এদিন জোর করে চাষ করতে গিয়েছিলাম। তাতেও বাধা দেওয়া হয়। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কর্তা বলেন, মেডিক্যাল কলেজ গড়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ময়রাপুকুর মৌজায় ৯ একরের বেশি রায়তি জমি বৈধভাবে কেনা হয়েছে। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালে ওই জমির একাংশে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার জন্য প্ল্যান পাশ করানো হয়। বিল্ডিংও তৈরি হয়। বাকি অংশ সিমেন্টের পিলার দিয়ে ঘেরা হয়েছে। এখন হঠাৎ এক মহিলা দাবি করছেন, তিনি নাকি ওই জমিতে চাষ করতেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বদনামের জন্য কারও প্ররোচনায় ওই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষ্ণুপুর ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ময়রাপুকুর মৌজায় একটি জমিতে বর্গাদার উচ্ছেদের বিষয়ে অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।