নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: টোটোর দাপটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে শিল্পাঞ্চলের রাস্তাঘাট। সকাল-সন্ধ্যায় রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পাশাপশি, টোটোর বাড়বাড়ন্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস ও নির্দিষ্ট রুট পারমিট থাকা অটোগুলি। দুর্গাপুরে বিপুল লোকসানের মধ্যে চলতে থাকা এই দু’টি পরিষেবাই সোমবার আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেল। এবিষয়ে কোনওরকম আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি।
ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পথচলতি সাধারণ মানুষ। সকলেই স্কুল, অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখেন, বাস নেই। বাসস্ট্যান্ডে বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও তা ছাড়ছে না। এহেন অবস্থায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয় যাত্রীদের। বাধ্য হয়ে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গাড়ি বুক করলেন। কেউ আবার গন্তব্যে না গিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয় প্রশাসন। এআরটিও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে।ন কিন্তু, বিকেল পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের পথে দুর্গাপুরের বাস পরিষেবা। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে রানিগঞ্জ, উখরা ও পাণ্ডবেশ্বরেও।
দুর্গাপুর সাব ডিভিশন মিনিবাস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, তিন বছর ধরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রতিবার প্রশাসন জানাচ্ছে, অবৈধ টোটো নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু, তা হচ্ছে না। একের পর এক বাস লোকসান করে রাস্তায় নামছে। আমরা বিপন্ন। তবুও প্রশাসন উদাসীন। রাস্তাঘাটে আর চলাফেরা করা যাচ্ছে না। এদিন আমরা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা ডাকা হয়। আমরা জানিয়েছি, বাসরুটে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করলেই আমরা রাস্তায় বাস নামাব। প্রশাসন তা নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি।
নির্দিষ্ট রুট থাকা অটো চালকদের দাবি, বিনা পারমিটেই অবৈধ অটোও শহরে চলাচল করছে। তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি, যেসব রুট অটোর জন্য নির্দিষ্ট করা রয়েছে, সেখানে টোটো চালানো যাবে না।
এদিন প্রান্তিক বাসস্ট্যান্ডে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মিনিবাসগুলি। ঈশানী পাল, সোমা ঘোষ প্রমুখ বাসস্ট্যান্ডে এসে শোনেন, বাস চলছে না। তাঁরা সমস্যায় পড়েন। বাধ্য হয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দেন। অনেকে আবার টোটোয় চড়ে নিজ গন্তব্যে পাড়ি দেন। বহু স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া বিপাকে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে রানিগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর, অণ্ডাল, উখরাতেও। সেইসব জায়গা থেকেও দুর্গাপুরগামী বাস চলাচল করেনি। ওই এলাকার মানুষও নির্দিষ্ট সময়ে বাস না পেয়ে সমস্যায় পড়ে।
আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনে সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় বলেন, বাস মালিকদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অনুরোধে আমরাও রানিগঞ্জ থেকে দুর্গাপুর অভিমুখে কোনও বাস চালাইনি।
পশ্চিম বর্ধমানের রিজিওন্যাল ট্রান্সপোর্ট অফিসার মৃন্ময় মজুমদার বলেন, সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র