Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ, সদ্যোজাতের দেহ বাক্সে ভরে বিক্ষোভ

সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে শিশুর মৃতদেহ কার্টনে ভরে হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ‌ দেখান পরিজনরা।

চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ, সদ্যোজাতের দেহ বাক্সে ভরে বিক্ষোভ
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে শিশুর মৃতদেহ কার্টনে ভরে হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ‌ দেখান পরিজনরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস হাসপাতালে পৌঁছে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সত্য নয়। তবে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রামের বাসিন্দা রেশমা খাতুন শনিবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘক্ষণ প্রসব না হওয়ায় পরিবারের লোকজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রেফার চান। কিন্তু অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাতে কর্ণপাত করেননি। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে প্রসূতিকে রেফার করা হয়। এরপর পরিজনরা প্রসূতিকে চাঁচলের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করান। সেখানে সিজারে মৃত শিশু প্রসব হয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রামীণ হাসপাতালেই মায়ের গর্ভে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। এরপর পরিজনরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে এদিন সকালে মৃত সদ্যোজাতের দেহ বাক্সে করে নিয়ে এসে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিক্ষোভে একাংশ স্থানীয় বাসিন্দাও শামিল হন। 
প্রসূতির দাদা শেখ আলি বলেন, আমরা আগেই রোগীকে রেফার করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার পাল্টা আমাদের বকাঝকা করেন। কিন্তু শেষে উপায় না দেখে রেফার করল!‌ চিকিৎসকের ভুলের কারণে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। আমরা অভিযোগ করব। প্রসূতির আর এক আত্মীয় সবজুনা বিবি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর কমবেশি প্রসব যন্ত্রণা হচ্ছিল। নার্সদেরকে বারবার বলা সত্ত্বেও গুরুত্ব দেয়নি। প্রথম বাচ্চা, তাই প্রসব হতে সময় লাগবে বলে বুঝিয়ে রেখে দেন। রেফার করে দিতে বলেছিলাম। সঠিক সময়ে রেফার করেনি। গর্ভে সদ্যোজাতের মৃত্যুর পর রেফার করা হয়। 
যদিও হাসপাতালের চিকিৎসক শুভেন্দু ভক্ত বলেন, চিকিৎসার গাফিলতি হয়েছে, এটা তদন্ত না করে বলা যাবে হবে না। তবে আমি যেটুকু রেকর্ড দেখলাম, এখানে থাকতে বাচ্চাটি গর্ভে মারা যায়নি। রোগীর পরিবার  সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে চাঁচলের কোনও এক নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। তদন্ত করা হবে। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালদহ জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ