Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদর হাসপাতালে গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষোভ, সিউড়িতে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন চিকিৎসক

চিকিৎসায় গাফিলতিতে সদ্যোজাতের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল সিউড়ি সদর হাসপাতালে। বুধবার সকাল থেকেই এনিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয় হাসপাতাল চত্বরে।

সদর হাসপাতালে গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষোভ, সিউড়িতে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন চিকিৎসক
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: চিকিৎসায় গাফিলতিতে সদ্যোজাতের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল সিউড়ি সদর হাসপাতালে। বুধবার সকাল থেকেই এনিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয় হাসপাতাল চত্বরে। মারমুখী হয়ে ওঠে শিশুর পরিবারের লোকজন। সিউড়ি থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিপুল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। মৃত শিশুর বাড়ির লোকজন দাবি তোলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসককে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পরে অবশ্য পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিবারের লোকজন কিছুটা নরম হন। অভিযুক্ত চিকিৎসককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় পরিবার। অবশেষে ওই চিকিৎসক হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলে বরফ গলে।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত শনিবার সিউড়ি সদর হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন সিউড়ি শহর সংলগ্ন বাঁশজোড় গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাহেবের স্ত্রী চুমকি বিবি। পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শিশুটি প্রচণ্ড জোরে কাঁদতে থাকে। প্রসূতির পরিবারের সদস্য আফরোজা বিবি বলেন, শিশুটি অনবরত কাঁদতে থাকলে আমরা তা ডাক্তারকে জানাতে গিয়েছিলাম। তখন ডাক্তার বলেন, এরকম একটু কাঁদবে। তখন বলি, অন্যান্য শিশুরা তো এরকম কাঁদছে না। ডাক্তার তাতে কোনও ভ্রুক্ষেপই করেননি। পাল্টা, কুকথা বলেন। প্রসূতির স্বামীর বন্ধু হোসেন শাহ বলেন, মঙ্গলবার রাতে নার্সরা এসে জানান, শিশুটিকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু শিশুটির কী হয়েছে, সে ব্যাপারে বারংবার জিজ্ঞেস করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা কিছুই জানাতে চাননি। বুধবার সকাল ন›টা নাগাদ শিশুটির মৃত্যু হয়। আমাদের প্রশ্ন, শিশুটি যখন সকাল থেকেই কাঁদছিল, তখনই যদি চিকিৎসকেরা গুরুত্ব দিতেন, তাহলে হয়তো আজ পিতাকে সন্তানহারা হতো না। 
তবে, এখানেই শেষ নয়। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যুর পর চিকিৎসকের থেকে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তিনি চরম দুর্ব্যবহার করেন। ঔদ্ধত্য দেখান। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বললে ওই চিকিৎসক নাকি বলেন, তোমরা যেখানে পারো অভিযোগ করো। কেউই আমার কিছু করতে পারবে না। ওই চিকিৎসক পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজও করেছে বলে অভিযোগ। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মারমুখী হয়ে ওঠে পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। চিকিৎসক ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সুজয় মালাকার নামের অভিযুক্ত চিকিৎসক অবশ্য মানছেন, আমি কিছু খারাপ কথা বলেছি। তারজন্য আমি ক্ষমা চাইছি। তবে চিকিৎসায় গাফিলতি হয়নি। 
জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের দাবি, শিশুটির খিঁচনি ও রক্তে শর্করা কমে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা শিশুটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। তদন্ত করে দেখা হবে। যদি চিকিৎসার গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, হাসপাতালে সদ্যোজাতর মৃত্যু এবং মাতৃমৃত্যু আটকাতে আমরা সবরকম চেষ্টা করি। প্রতি মঙ্গলবার এনিয়ে রিভিউ মিটিংও করি। বর্তমানে এই হার আগের তুলনায় অনেক কমেছে।  উত্তেজনা সামাল দিতে হাসপাতালে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ