সংবাদদাতা, কান্দি: চরম বেহাল রাস্তা। পড়ুয়ারা সাইকেল নিয়ে স্কুলে যেতে পারে না। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় টোটোও চলে না। তাই ঝুঁকি না নিয়ে অন্তঃসত্ত্বাদের প্রসবের আগেই গ্রাম থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকবছর ধরে রাস্তার এমন কঙ্কালসার অবস্থার কারণে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামলেন টোটো চালকরা। ভরতপুর-১ ব্লকের গড্ডা পঞ্চায়েত ভবনের সামনে টোটো রেখে রাস্তা অবরোধ করা হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। পরে সেখানে পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই পঞ্চায়েত এলাকার বৈদ্যনাথপুর গ্রাম থেকে কাশীপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় কিলোমিটার রাস্তা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরি হয়েছিল প্রায় ১৪বছর আগে। পরবর্তীতে দু’বার রাস্তার সংস্কারও করা হয়েছিল। একবার জেলা পরিষদের মাধ্যমে। অন্যবার স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে ইটের কুচি ফেলে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকবছরে কোথাও এক ঝুড়ি ইটের কুচিও পড়েনি। ফলে রাস্তা আর নেই। গোটাটাই বড় বড় গর্তে জল জমে পুকুরের চেহারা নিয়েছে।
এমনকী, বৃষ্টি না পড়লেও রাস্তায় জল কমে না। ফলে কার্যত রাস্তায় যান চলাচল অঘোষিত নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের গ্রাম থেকে বেরনোর বিকল্প কোনও রাস্তাও নেই। ফলে মহাবিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। কল্পনা হাজরা বলেন, এমন রাস্তা পৃথিবীতে কোথাও আছে বলে জানা নেই। রাস্তা যেন মনে হচ্ছে লাল জলের নালা।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাস্তার এমনই দশা হয়েছে যে গ্রামের কেউ অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রসবের আগেই তাঁকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পড়ুয়ারা সাইকেল না চালিয়ে হেঁটে স্কুলে যায়। খারাপ রাস্তার কারণে কোনও টোটো চালক যেতে চান না। এক টোটো চালক বলেন, কীভাবে টোটো চালাব বলুন? টোটো উল্টে গেলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ আমাদের দিতে হচ্ছে। ১০ টাকা রোজগার করতে গিয়ে লোকসান হচ্ছে হাজার টাকা। তাই এই রাস্তায় টোটো কেউ চালাতে চান না।
এদিকে এদিন সকাল ৮টা নাগাদ ওই রাস্তার পাশে স্থানীয় গড্ডা পঞ্চায়েত সামনে চালকরা টোটো রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে সেখানে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা ও ভরতপুর থানার পুলিস পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে পুলিসের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। টোটো চালক সাজু শেখ বলেন, আমরা এক সপ্তাহ দেখব। সমস্যার সুরাহা না হলে আবারও আন্দোলনে নামা হবে। ঘটনায় গড্ডা পঞ্চায়েত প্রধান গোলাপী খাতুন বলেন, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এই রাস্তা সংস্কার করা মোটেই সহজ নয়। তবে গত দু’বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের জন্য আমরা বারবার জেলা পরিষদে জানিয়েছি।