নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট-১ ব্লকের অন্তর্গত রামনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল দাঁড়িয়ে যায়। তার উপর গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির জেরে কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একাধিক এলাকায়। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করার দাবি সত্ত্বেও পঞ্চায়েত ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে বসে থাকার কারণেই এই সমস্যা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার এই অভিযোগে পঞ্চায়েত অফিসে তালা দিয়ে দিলেন শতাধিক গ্রামবাসী। পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। দ্রুত সমস্যার সমাধান না মিটলে আবার পঞ্চায়েতে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে বিলের মাঠ, কামারপাড়া, ন’বিঘা সহ একাধিক এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে বিলের মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বেশ কয়েক ডজন বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে গিয়েছে। এলাকায় কোথাও কোমর জল আবার কোথাও হাঁটু জল জমে রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকে ঘরছাড়া। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন চললে এই এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে মঙ্গলবার প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ রামনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিস ঘেরাও করেন। পঞ্চায়েতে ঢোকার মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ভিতরে প্রধান সহ পঞ্চায়েতের অন্যান্য কর্মীদেরও আটকে রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কবিতা দেবনাথ বলেন, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কিন্তু, সমস্যা মিটছে না। ঘরে ঘরে জল ঢুকে গিয়েছে। রাতে ঘুমোতে গিয়ে দেখছি বিছানার পাশে সাপ সাঁতার কাটছে। বাচ্চা নিয়ে এইভাবে ঘরে থাকা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা পঞ্চায়েত অফিসের গেট তালা বন্ধ করে দিয়েছি। বিলের মাঠ এলাকার বাসিন্দা সমীর ভৌমিক বলেন, এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত শুধুমাত্র হচ্ছে হবে করে বছরের পর বছর কাটিয়ে যাচ্ছে। আমার ঘরের ভিতরে এক কোমর জল। পঞ্চায়েত কোনও কাজ করছে না। তাই আমরা বিক্ষোভে শামিল হয়েছি।
বিলের মাঠ এলাকায় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষ্মী দেবনাথ বলেন, বহুবার আমি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চায়েতে গিয়েছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি আমার এলাকার কী অবস্থা। কিন্তু, পঞ্চায়েত কোনও কাজ করে না। নিকাশির কাজ তো ছেড়ে দিন এলাকায় অর্ধেকের বেশি বিদ্যুতের খুঁটিতে আলো পর্যন্ত নেই। যে ক’টি নিকাশি নালা রয়েছে তা বর্ষার আগে পরিষ্কার করাও হয়নি।
এদিন সাধারণ মানুষের ঘেরাও বিক্ষোভের চাপে শেষ পর্যন্ত বিলের মাঠ এলাকায় সমস্যা পরিদর্শনে যান ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান তাপসী আঢ্য। যদিও সেখানেও তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রধান বলেন, এলাকাটি নিচু। এখানে জমা জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। পঞ্চায়েত তার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এই এলাকার জল পাশে চূর্ণী নদী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়।