সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃতদেহ নার্সিংহোমের সামনে ফেলে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতার আত্মীয়রা। রবিবার রাতে এই ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জের একটি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়ায়। চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে সরব হন মৃতার আত্মীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশি আশ্বাসে শেষমেশ তাঁরা বিক্ষোভ তুলে নেন। মৃতার নাম হাবিবা খাতুন (২৭)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার মির্জাপুর পঞ্চায়েতের বিজয়পুর গ্রামে। এদিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ মৃতদেহ সৎকারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে দেহ সৎকার করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জের মির্জাপুরের গৃহবধূ হাবিবা খাতুন সপ্তাহ দু’য়েক আগে গলব্লাডার অপারেশনের জন্য গাড়িঘাট এলাকার এক নার্সিংহোমে ভর্তি হন। ওই বধূর গলব্লাডার অস্ত্রোপচার হয়। এরপরেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা ও বমি শুরু হলে তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, রোগীর পেটে রক্ত জমে রয়েছে। রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক। সেখান থেকে ওই বধূকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সন্ধ্যায় মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বধূর মৃত্যু হয়। বহরমপুর থেকে মৃতদেহ রঘুনাথগঞ্জে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ নিয়ে ওই নার্সিং হোমের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হাবিবা খাতুনের এক আত্মীয় সুরাজ শেখ বলেন, রোগীর পেটে রক্তক্ষরণ হয়ে তা জমে যায় বলে মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক জানান। সঠিকভাবে চিকিৎসা হলে প্রাণটা যেত না।
ওই নার্সিংহোমের হিসাবরক্ষক মহম্মদ হেলালউদ্দিন বলেন, রোগীর গলব্লাডারের সফল অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে বাড়ি নিয়ে চলে যান পরিবারের সদস্যরা। পরে ফের সমস্যা দেখা দেয়। তাঁরা তখন অন্যত্র চিকিৎসা করান। আমাদের দিক থেকে আমরা সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি। পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়।