Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্ত্রীকে ঘরবন্দি করে অত্যাচার, তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

বিয়ের পর থেকে নববধূকে বাড়িতেই আটকে রেখেছিল স্বামী ও শাশুড়ি। সেই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বেড়েই চলছিল।

স্ত্রীকে ঘরবন্দি করে অত্যাচার,  তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিয়ের পর থেকে নববধূকে বাড়িতেই আটকে রেখেছিল স্বামী ও শাশুড়ি। সেই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বেড়েই চলছিল। শনিবার দুর্গাপুর কোকওভেন থানার নডিহায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অনুপস্থির সুযোগে পাঁচিল টপকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন ওই বধূ। এলাকার লোকজনকে সব ঘটনার কথা জানালে প্রতিবেশী ও পুলিসের সহযোগিতায় রক্ষা পান তিনি। তবে অভিযুক্ত শ্বাশুড়ি তথা এলাকার ‘তৃণমূল নেত্রী’ বাড়ি ফিরতেই জনরোষের মুখে পড়েন। ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিস ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শাশুড়িকে আটক করে নিয়ে যায় ও নির্যাতিতা বধূকে উদ্ধার করে। গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর স্বামী মোট ১২টি বিয়ে করেছে। বিয়ের পর বউদের অত্যাচার করে ছেড়ে দেয়। এইভাবেই দীর্ঘদিন তার চলছিল। তার মা ছেলেকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী অসীমা চক্রবর্তী বলেন, অভিযুক্ত মহিলা প্রায় ১০-১২ বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দলে থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণ করার চেষ্টা করেছিল। তাতে সফল না হওয়ায় সে দল ছেড়ে দিয়েছিল। এরপরেও তৃণমূলের নাম ভাঁড়িয়ে দলের বদনাম করছে। পুলিস প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নডিহার ওই যুবকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয় মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ওই কিশোরীর। যুবক তাঁর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রায় ১০ মাস আগে তাঁকে বিয়ে করে বাড়িতে আনে। অভিযোগ, এরপর থেকেই বধূকে ঘরের ভিতর বন্দি করে রাখা হয়েছিল। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা বাপের বাড়িতে জানালে গৃহবধূর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দিত। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজনকে খুন করারও হুমকি দিত। এদিন বাড়িতে শ্বাশুড়ি ও স্বামীর অনুপস্থিতর সুযোগে তিনি পাঁচিল টপকে রাস্তায় বেরিয়ে এলাকাবাসীকে সব কিছু জানান। 
নির্যাতিতা বলেন, আমাকে বিয়ের আগে জানিয়েছিল, তার একবার বিয়ে হয়েছিল। সেটা জেনেই আমি বিয়ে করেছিলাম। তারপরে ধীরে ধীরে জানতে পারি, আমাকে নিয়ে সে মোট ১২টি বিয়ে করেছে। আমাকে ঘরে বেঁধে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। খুন করে দেওয়া সহ নানান হুমকি দিত। প্রায় ২০টি মেয়ের সঙ্গে এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক রয়েছে। শ্বাশুড়ি তৃণমূল নেত্রী বলে জানতাম। তাই আমি ভয়ে ছিলাম। স্থানীয় বাসিন্দা রিম্পা পরামানিক ও শঙ্কর সনি বলেন, একটা ছেলে একের পর এক বিয়ে করেই চলেছে। আর তার মা প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাজনীতি করুক বা না করুক এটা অন্যায়। আমরা ছেলে ও মায়ের শাস্তির দাবি করেছি। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ