লন্ডন: ক’দিন আগেও কাগিসো রাবাডার ক্রিকেট ভবিষ্যৎ ঢাকা পড়েছিল আঁধারে। ডোপ টেস্টে ধরা পড়েছিলেন তিনি। প্রায় শেষ হতে বসেছিল কেরিয়ার। অনেক চেষ্টায় রেহাই পেয়েছিলেন। বলা ভালো, বাইশ গজে পুনর্জন্ম হয়েছিল তাঁর। সেই রাবাডাই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বল হাতে আগুন ঝরালেন। তাতেই ২১২ রানে গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৫১ রান দিয়ে নিলেন ৫ উইকেট। দেশের হয়ে সর্বাধিক টেস্ট উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় ৩৩২টি শিকারের সঙ্গে রাবাডা টপকে গেলেন অ্যালান ডোনাল্ডকে (৩৩০)।
অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে আটকে রেখেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষে মাত্র ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে প্রোটিয়ারা। খাতা খোলার আগেই স্টার্কের বলে ড্রেসিং রুমে ফেরেন মার্করাম। তাঁরই বলে১৬ রানে আউট রিকেলটন। কিছুক্ষণের মধ্যে মালডারকে (৬) ফেরান কামিন্স। ত্রিস্টান স্টাবসও (২) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাঁকে ফেরান হ্যাজলউড। ক্রিজে রয়েছেন তেম্বা বাভুমা (৩) ও ডেভিড বেডিংহ্যাম (৮)।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ক্যাঙারু বাহিনীর শুরুটা ভালো হয়নি। খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন খাওয়াজা। সপ্তম ওভারে রাবাডার দ্বিতীয় শিকার গ্রিন (৪)। জোনা উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ব্যাকফুটে ডনের দেশ। স্টিভ স্মিথ রুখে দাঁড়ালেন। তবে পাশে পেলেন না কাউকে। কারণ, লাবুশানে ১৭ রানে কট বিহাইন্ড হলেন।
লাঞ্চের ঠিক আগে ট্রাভিস হেডের উইকেট টলিয়ে দিয়েছিল অজি শিবিরকে। ছন্দে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটারের ফেরাটা ছিল বড় ধাক্কা। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ৬৭। সেখান থেকে দলকে টানেন স্মিথ। ৭৬ বলে তিনি হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে তাঁর পার্টনারশিপই অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। তবে ওয়েবস্টার আগেই লেগ বিফোর হতেই পারতেন, যদি রিভিউ নিতেন বাভুমা। জুটি ভাঙতে মার্করামের হাতে বল তুলে দেন বাভুমা। এই সিদ্ধান্ত কাজেও লেগে যায়। স্মিথ (৬৬) ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। বল ব্যাটে লেগে ফার্স্ট স্লিপে যায়। তিনবারের প্রয়াসে তা ধরতে সফল হন জানসেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন ওয়েবস্টার। তিনিই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বাধিক ৭২ রান করেন। কেরি আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।