নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের সময় থেকে বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফের বয়স্ক করদাতাদের সম্পত্তি করে বিশেষ ছাড় চালু করল কলকাতা পুরসভা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুনরায় এই ছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের সময় থেকে বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফের বয়স্ক করদাতাদের সম্পত্তি করে বিশেষ ছাড় চালু করল কলকাতা পুরসভা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুনরায় এই ছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষের শুরু থেকেই এই ছাড় দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলেছিল। নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া যায়নি। ৩০০-র বেশি আবেদন পড়েছিল। তার মধ্যে যেমন বেশ কিছু নতুন আবেদন রয়েছে, তেমনই আছে পুনর্নবীকরণের অনেক আবেদন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনের ধারায় বছর বছর এই ছাড় মেলে এবং যা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা নয়, সেক্ষেত্রে তা কেন আচরণবিধির আওতায় আসবে? বিষয়টি নিয়ে মিশ্র মত ছিল পুরসভার সম্পত্তিকর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের আধিকারিকদের। রাজ্যে পালাবদল পরবর্তী সময়ে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার কারণে এই ছাড় নিয়ে এতদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছিল না। সূত্রের খবর, অনেক চেষ্টা চালিয়ে মুখ্য প্রশাসক স্মিতা পান্ডেকে এ বিষয়ে রাজি করান পুরসভার আধিকারিকরা। তারপর ফের ফের ছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিক নিয়মে এবং যথা সময়ে সম্পত্তি কর জমা করলে বিশেষ ছাড় মেলে। আবার অনলাইনে ট্যাক্স জমা করলে তার উপরও বাড়তি ছাড় পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতাদের সম্পত্তি করে ১০ শতাংশ ছাড় দেয় পুরসভা। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী হলে এই ছাড় ২৫ শতাংশ। কোনো প্রবীণ নাগরিক একবার এই ছাড়ের জন্য আবেদন করলে টানা তিন বছর এই সুবিধা পান। তারপর আবার রিনিউয়াল বা পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন করতে হয়। গত মার্চের শেষ থেকে নতুন এবং পুরানোদের রিনিউয়াল মিলিয়ে বহু আবেদন জমা পড়েছিল।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘১৭২(১)(বি)(১এ) ধারায় এই ছাড়ের জন্য আইনি সংস্থান রয়েছে। এটা নতুন কোনো ঘোষণা নয় যে নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়বে। বছরের পর বছর ধরে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এটা আইন, তাই আচরণবিধিতে আটকানোর কথা ছিল না।’ আধিকারিকদের একাংশের আবার বক্তব্য, এটা নতুন নয়। গত লোকসভা ভোটেও এই ছাড় নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলেছিল। যাঁরা ইতিমধ্যে ছাড় পাচ্ছেন অর্থাৎ যাঁরা অনুমোদিত, তাঁদের নিয়ে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু নতুন আবেদন কেউ করলে সেটার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছিল না এতদিন। এই ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়র পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন। আইনে সেই অনুমোদন পুরসভার কমিশনারের এক্তিয়ারভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু প্রথমে নির্বাচন, পরে পুরসভায় ডামাডলের ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর পুর- প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ফের এই ছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে।