সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডুয়ার্স রুটটির পুরোটাই গিয়েছে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। এই রেল রুটটি গিয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামারি অভয়ারণ্য ও মহানন্দা অভয়ারণ্যের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। এই রেলপথে হামেশাই বন্যপ্রাণীরা রেল ট্র্যাক পারাপার করে। রেল ট্র্যাক পারাপারের সময় লোকো পাইলটদের তৎপরতায় গত একমাসে ৫০টি বন্যপ্রাণী রক্ষা পেয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ৩০টি হাতি ও ২০টি হরিণ।
আজ, মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন কর্তৃপক্ষ তাঁদের মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই রুটে ট্রেন চালকদের তৎপরতায় বন্যপ্রাণী রক্ষার শেষ ঘটনাটি ঘটেছে আজ ভোর ৩টে ৪০ মিনিটে ক্যারন ও বানারহাট স্টেশনের মাঝে। রেলের ৮৪/৮ পিলারের কাছে। সেই সময় একটি লাইট ইঞ্জিনের দুই লোকো পাইলটের তৎপরতা ও বুদ্ধিমত্তার জেরে একটি পূর্নবয়স্ক দাঁতাল হাতি বেঁচে যায়। রেল ট্র্যাকে হাতিটিকে উঠে আসতে দেখে ওই লাইট ইঞ্জিনের দুই লোকো পাইলট সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনটিকে থামিয়ে দেয়। পরে হাতিটি রেল ট্র্যাক থেকে নেমে জঙ্গলের ভিতরে নিরাপদ দূরত্বে চলে গেলে ইঞ্জিনটি ফের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
রেল সূত্রে খবর, গত এক মাসে লোকো পাইলটদের তৎপরতায় এই বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষার বেশিরভাগ ঘটনাগুলিই ঘটেছে সেবক থেকে গুলমার মধ্যে। এছাড়া, নাগরাকাটা থেকে বানারহাট ও কালচিনি থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনের মধ্যেও ট্রেন চালকদের তৎপরতায় অনেক বন্যপ্রাণী রক্ষা পেয়েছে। রেলের দাবি, ট্রেন চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব কর্মদক্ষতার জেরেই এই সাফল্য এসেছে। এই সাফল্যের পিছনে বনকর্মীদের ভূমিকাও রয়েছে।