Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বহুতলের সিসি নেননি প্রোমোটার! অনুমোদন নয় নতুন বিল্ডিং প্ল্যানে, বোর্ড মিটিংয়ে দাবি বরানগরের কাউন্সিলারদের

বহুতলের সিসি (কমপ্লিশন সার্টিফিকেট) না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারকে নতুন কোনও বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন নয়। বরানগর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এমন দাবি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বহুতলের সিসি নেননি প্রোমোটার! অনুমোদন নয় নতুন বিল্ডিং প্ল্যানে, বোর্ড মিটিংয়ে দাবি বরানগরের কাউন্সিলারদের
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বহুতলের সিসি (কমপ্লিশন সার্টিফিকেট) না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারকে নতুন কোনও বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন নয়। বরানগর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এমন দাবি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কাউন্সিলারদের এই দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এই ধরনের অসাধু প্রোমোটারদের নামের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের। যদিও বরানগরে ‘ঘুঘুর বাসা’য় পরিণত হওয়া প্রোমোটারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শহরবাসীর দাবি, ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং পুরসভার কোষাগার ভরাতে দ্রুত এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এক বোর্ড মিটিংয়ে সিসি না হওয়া আবাসন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শহরে এমন বহুতলের সংখ্যা শতাধিক। সেসব আবাসনে ফ্ল্যাট কেনার পর মিউটেশন করাতে গিয়ে ফ্যাসাদে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাদের। সেই মার খাচ্ছে এই খাতে পুরসভার আয়। এই ইস্যুতে একাধিক কাউন্সিলার বোর্ড মিটিংয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, অনেক প্রোমোটার বহুতল তৈরি করে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু পুরসভা থেকে সিসি নেওয়ার প্রয়োজনই বোধ করছেন না। তাঁরাই আবার নতুন বিল্ডিং প্ল্যান জমা করছেন। পুরসভা থেকে অনুমোদনও মিলে যাচ্ছে। তাই যেসব প্রোমোটার আগের আবাসনের সিসি জমা করেননি, নতুন করে তাঁদের কোনও বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন না দেওয়ার মতো কড়া ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করেন তাঁরা। এই প্রেক্ষিতে পুরসভার চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিক ইঞ্জিনিয়ারদের সিসি না নেওয়া প্রোমোটারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর। একাধিক কাউন্সিলার জানান, এই কাজ শুধু ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ছাড়লে হবে না। কাউন্সিলারদেরই উদ্যোগী হয়ে এলাকার কোন আবাসনের সিসি হয়নি, তা খুঁজে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বরানগর পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদেরই অনেকে বেনামে প্রোমোটারির সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। শুধু তাই নয়, এই ইঞ্জিনিয়াররা রীতিমতো ‘স্পেশাল ফি’ নিয়ে প্রোমোটারদের বিল্ডিং প্ল্যানও তৈরি করে দেন। আবাসনের কাজ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, পুরসভার তরফে তা নিয়মিত তদারকি করতে যান তাঁরাই। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ওই আবাসন তৈরিতে কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, পরিদর্শন করে সার্টিফিকেট দেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘বরানগরে প্রোমোটারি ব্যবসায় বড় চক্র রয়েছে। সেখানে নেতা, সরকারি কর্মী ও ব্যবসায়ী, প্রোমোটাররা যুক্ত। ফলে সিসি না নেওয়া অসাধু প্রোমোটারদের তালিকা তৈরি করে আদৌ কতটা কাজের কাজ হবে, তা লাখ টাকার প্রশ্ন।’ এ বিষয়ে মতামতের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যানকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এসএমএসের কোনও জবাবও দেননি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ