নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম হয় গতকাল। আর সেই ঘটনায় তিনিটি পৃথক এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। তিনিটি মামলাতেই অভিযুক্তদের তালিকাতেই রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তার সঙ্গে রয়েছেল ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীর সহ আরো কয়েকজন।
তিনটি মামলাই দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এর মধ্যে একটি অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপ কুমার বসু। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বেআইনি জমায়েত, হিংসা ছড়ানো, সরকারি কাজে বাধা, মারধর, হুমকির মতো একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি কাজে ব্যবহৃত কেএমসির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে বেআইনিভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।
দ্বিতীয় এফআইআরটি দায়ের করেছেন পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিত কুমার মণ্ডল। বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে গোলমালের খবর পেয়ে তিনি পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা একটি ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড সরাতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি।
তৃতীয় মামলাতেও অভিষেক, ডেরেক ও বৈশ্বানর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগের পাশাপাশি মহিলা পুলিশকর্মীদের উপর হেনস্থা ও বলপ্রয়োগের অভিযোগের কথা রয়েছে। আরো অভিযোগ, মহিলা পুলিশকর্মী এবং কেএমসি আধিকারিকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এক মহিলা পুলিশকর্মীর উপর তাঁর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও, সরকারি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।