Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের চর্চায় পার্থ ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক

শিক্ষকের চাকরি দেওয়ার নামে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ।

ফের চর্চায় পার্থ ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শিক্ষকের চাকরি দেওয়ার নামে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের অর্থনীতির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর তন্ময় সামন্ত দু’বছরের বেশি সময় বেপাত্তা। কলেজে আসছেন না। বাড়িতেও তাঁর খোঁজ নেই। ‘নিখোঁজ’ ওই অধ্যাপকের মাইনে বন্ধ করেছে কলেজের গভর্নিং বডি। সুপ্রিম কোর্ট একসঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর প্যানেল বাতিল করার পর আবারও চর্চার কেন্দ্রে ওই গুণধর অধ্যাপক। নিজেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে তমলুক, কোলাঘাট, ময়না, ভগবানপুর, চণ্ডীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। কারও কারও মতে, প্রতারণার পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে দু’বছরের বেশি সময় আত্মগোপন করে আছেন ওই অধ্যাপক।

Advertisement

তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, অধ্যাপক তন্ময় সামন্ত দীর্ঘসময় ধরে কলেজে আসছেন না। তাঁর কোনও খোঁজখবর নেই। গভর্নিং বডির মিটিংয়ে তাঁর মাইনে বন্ধ করা আছে। এই মুহূর্তে তাঁর সম্পর্কে কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। 
কোলাঘাট থানার কিশোরচক গ্রামে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বাড়ি। তাঁর স্ত্রীও ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বসে চাকরি পেয়েছেন। অধ্যাপক হিসেবে তাঁর ভালো নামডাক ছিল। সেই পরিচিতিকে হাতিয়ার করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। তাঁর সুপারিশে বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। সেটাকে পুঁজি করেই বহু চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের অনেকেই চাকরি পাননি। টাকাও ফেরত পাননি। এভাবেই ভগবানপুর থানার তালদা গ্রামের পবিত্র দাস, ভূপতিনগর থানার মধুসূদনচক গ্রামের শুভজিৎ বেরা সহ অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে থানায় এফআইআর করেন। পবিত্রবাবু তমলুক থানায় এফআইআর করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মধুসদূনবাবুর দাবি, তাঁর কাছ থেকে আট লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন ওই অধ্যাপক।
অভিযুক্ত অধ্যাপক বেশ কয়েকজন এজেন্ট নিয়োগ করে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। ওই কাজে ময়নার আড়ংকিয়ারানা গ্রামের গুরুপদ পাল, গোজিনা গ্রামের সৌমেন মান্না সহ আরও অনেকে যুক্ত ছিল। ওই এজেন্টদের বিরুদ্ধেও এফআইআর হয়েছিল। একের পর এক থানায় এফআইআর দায়ের হতেই ওই অধ্যাপক গাঢাকা দেন। তারপর কলেজে যাওয়াও বন্ধ করে দেন। এভাবে দু’বছরের বেশি সময় তাঁর কোনও খোঁজ নেই। বাড়িতেও দেখা পাওয়া যায়নি। শাসক দলের নেতাদের একাংশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সকলেই জানেন। তাঁদের কেউ কেউ ওই অধ্যাপককে নিয়ে সরাসরি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে যেতেন বলে খবর।
অধ্যাপক তন্ময় সামন্তের মতোই কোলাঘাট ব্লকের কোলা গ্রামের তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইত তিন বছর ধরে ‘নিখোঁজ’। একদা কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভীষণ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। কোলাঘাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। চাকরিপ্রার্থীরা দলবেঁধে দফায় দফায় তাঁর বাড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তিন বছর ধরে ওই নেতার বাড়ি তালাবন্ধ। চাকরি বাতিল নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। এই অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুরে অধ্যাপক তন্ময় সামন্ত, অতনু গুছাইতরা এখন চর্চার কেন্দ্রে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ