সংবাদদাতা, দিনহাটা: ট্রেনের একটি কামরায় কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়তে পারেনি ১৫৪৬৮ বামনহাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বামনহাট স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল ট্রেনটির। কিন্তু দীর্ঘসময় কেটে গেলেও প্ল্যাটফর্ম ছাড়েনি ট্রেন। এদিকে, ঘোষণা ছাড়াই ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ধৈর্য হারিয়ে যাত্রীরা রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ায় অনেকেই টিকিট বাতিল করে টাকা ফেরত নিয়ে যান। অবশেষে সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ে।
দিনহাটার বাসিন্দা ট্রেনের যাত্রী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোচবিহারে জরুরি কাজে যাচ্ছিলাম। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছনো খুব দরকার ছিল। কিন্তু ট্রেন ছাড়তেই দু’ঘণ্টা লেট করে। বাধ্য হয়ে টিকিট বাতিল করে টাকা ফেরত নিয়েছি।
এমন অনেকে ছিলেন, যাঁরা টিকিট বাতিল করে ক্ষোভ নিয়ে প্ল্যাটফর্ম ছাড়েন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটির একটি কামরায় যান্ত্রিক সমস্যা ধরা পড়ে। সেই কামরাটি মূল ট্রেন থেকে আলাদা করে রাখা হয় স্টেশনে। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে সময় লেগে যায়। ফলে ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, কামরা জোড়া ও বাদ দেওয়ার জন্য শান্টিং অপারেশন দেরিতে হয়েছিল। সেই কারণেই ট্রেনটি ছাড়তে দেরি হয়। তবে ট্রেনটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চালানো হয়েছে, যাতে যাত্রাপথে দেরি পুষিয়ে শিলিগুড়িতে যথাসময়ে পৌঁছনো যায়।
তবে, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় ওই ট্রেনেই রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ চার ঘণ্টা দেরিতে দিনহাটা ফেরেন। সেদিন রেলের অব্যবস্থা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও পরিষেবার মান যে এখনও উন্নত হয়নি, এদিনের ঘটনাই তার প্রমাণ। যাত্রীদের প্রশ্ন, একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিলম্ব কেন রেলের নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে? ট্রেন পরিষেবা যাত্রীস্বার্থে ঠিক রাখতে কী যথাযথ নজরদারি চালানো হচ্ছে না? যদিও রেলের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়। বামনহাট স্টেশনে দাঁড়িয়ে ট্রেন। অপেক্ষায় যাত্রীরা। - নিজস্ব চিত্র।