Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরনো দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফের কাছাকাছি কাকা-ভাইপো

পুরনো দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফের কাছাকাছি কাকা-ভাইপো
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আজ যা কল্পনা করা দুষ্কর, কাল তাইই যেন সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোচবিহারের রাজনীতিতেও ঠিক তেমন ঘটনা ঘটল! রাজনীতির ময়দানে কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকা ‘কাকা-ভাইপো’ ফের কাছাকাছি এলেন। 
Advertisement
কোচবিহারের রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায়ের ‘কাকা-ভাইপো’র লড়াই দীর্ঘদিন ধরেই সুবিদিত। এই দুই নেতার ঘনিষ্ঠতা যেমন একসময় আলোচিত ছিল, তেমনই এঁদের দূরত্ব নিয়েও ব্যাপক জলঘোলা হয়েছে। একসময়ের চিড় ধরা সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ফাটলে পরিণত হয়েছিল। পুরনো সব দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফের তা জোড়া লাগল। কাছাকাছি এলেন ‘কাকা-ভাইপো’। সম্প্রতি পার্থবাবুর পিতৃবিয়োগ হয়েছে। সেই সময় রবিবাবু তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান। বরফ যেন তখন থেকেই গলতে শুরু করেছিল। 
দীর্ঘ ২২ বছর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সেই সময়েই পার্থপ্রতিম রায়ের উত্থান। সাংসদ হওয়া। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রবিবাবুর সঙ্গে শিষ্য পার্থপ্রতিম রায়ের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছয়। পরবর্তীতে পার্থবাবু দলের জেলা সভাপতি হন। তখনও একই পরিস্থিতি চলে। বর্তমানে তাঁদের কেউই দলের জেলা সভাপতি নন। যে পার্থবাবু একসময় অনেকগুলি সরকারি পদে ছিলেন,তিনি এখন শুধুই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান। আর একদা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এখন কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান। 
অন্যদিকে, ধীরে ধীরে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে জেলা তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব এখন অভিজিৎ দে ভৌমিকের কাঁধে। বর্ষীয়ান গুরু রবি ও শিষ্য অপেক্ষাকৃত নবীন প্রজন্মের পার্থ দু’জনেরই এখন দলে অনেকটাই কোণঠাসা। আর এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার মহারাজা জগদীপেন্দ্রনারায়ণ ভুপ বাহাদুরের ১০৯তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দুই নেতাকে কাছাকাছি আসতে দেখা গেল। প্রথমে কোচবিহার পুরসভার সামনে সংগঠনের আয়োজিত জগদীপেন্দ্রনারায়ণ ভুপ বাহাদুরের জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে তাঁরা একত্রিত হন। সেখান থেকে পার্থবাবুর আবেদনে সাড়া দিয়ে এনবিএসটিসি’র অফিসে আসেন রবিবাবু। সেখানেও মহারাজার জন্মদিন পালিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে দু’জনে বক্তব্য রাখার পর খোদ পার্থবাবুর চেম্বারে যান রবিবাবু। সেখানে বসে কফি খান। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এনবিএসটিসি’র চেয়ারম্যান হন। কিন্তু একবছরের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১২ বছর পর এদিন সেই ঘরে প্রবেশ করলেন তিনি। পার্থবাবুর মুখেও ছিল রবিবাবু সম্পর্কে প্রশংসা। তাঁকে পাশে বসিয়ে পুরসভার কর মেটানোর কথাও ঘোষণা করে দেন পার্থ। 
এনবিএসটিসি’র চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়ের চেম্বারে বসে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আমরা একসঙ্গে একমঞ্চেই আছি। একমঞ্চে অনুষ্ঠান করেছি। আপনাদের দেখা ও ভাবনায় হয়তো ভুল থাকতে পারে। সম্পর্ক ভালোই আছে। যখন বলার বলেছি। মনে অনেক কিছু থাকে। বলে ফেললে ভিতরে আর কিছু থাকে না। সেটা ক্ষণিকের ছিল। অন্যদিকে, পার্থপ্রতিম রায় বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মতান্তর হতে পারে কিন্তু মনান্তর হয়নি। রবিবাবু আমার পিতৃতুল্য। ওঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা। আমার উত্থানে ওঁর অবদান অনস্বীকার্য। ছাব্বিশের বিধানসভায় আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করে কোচবিহারে নয়ে নয় করব। 
সম্পর্কিত সংবাদ