সংবাদদাতা, বাগডোগরা: প্রথম ক্যাম্পাস কার্নিভালে বিতর্কে জড়ালো উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাসাগর হলে ছিল শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন হল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে এই কার্নিভালের আয়োজনে উঠেছে প্রশ্ন। সেখানে মাইক বাজিয়ে চলে নাচ-গান। গোটা ক্যাম্পাসেই এই গান বাজানো হয়। এতেই প্রশ্ন তুলেছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পর্যবেক্ষক মিঠুন বৈশ্য। তিনি বলেন, কার্নিভালের আয়োজক কমিটিতে গবেষক বা পড়ুয়াদের রাখাই হয়নি। পরীক্ষা চলাকালীন কীভাবে তারস্বরে গান বাজিয়ে অনুষ্ঠান হল, সেবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় পাওয়া যায়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নূপুর দাস বলেন, প্রথমবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্নিভাল হল। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে পেরেছে। আগামীতে এই কার্নিভাল আরও বড় হবে। এদিন বিভিন্ন বিভাগের কার্নিভালে ক্ষুদ্র চাষি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন স্টল মন কেড়েছে সকলের। কার্নিভালে ৫০এর বেশি স্টল ছিল। যার মধ্যে খাবারের স্টল, হস্তশিল্পের কারুকার্য, বস্ত্র, শাকসব্জি ও নানা রকম গাছের স্টল ছিল। মহকুমার বিভিন্ন এলাকা সহ নেপাল, সিকিম থেকেও স্টল নিয়ে এসেছিলেন অনেকে। কিশোর শর্মা নামের এক ব্যক্তি পশ্চিম সিকিমের সিতাকে মাশরুম, জার্মান চামেলী চা নিয়ে স্টল দেন। ২০টাকার বিনিময়ে নলেন গুড়ের পায়েস ও খিচুড়ি, চিকেন কষা, হাঁসের মাংস ভুনার স্টলেও উপচে পড়া ভিড় ছিল। সম্পূর্ন অর্গানিক শাকসব্জি নিয়ে হাজির হন শালুগাড়ার দ্বিজেন বর্মন। বিএসএফের তরফেও বসেছিল স্টল। সংস্কৃতি নামের স্টলে ছিল নানা সামগ্রী। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ফেস পেইন্টিংয়ে ছাত্রীদের ঝোঁক ছিল লক্ষ্য করার মত। বিভাগের ছাত্রীরা সেখানে নৃত্য পরিবেশন করেন। বাংলা বিভাগের ছাত্রীরাও নাচে অংশ নেন। ভূগোল বিভাগের চা ঘুগনি, পাঁপড়ি চাটের স্টলেও ভিড় দেখা যায়। পিঠে-পুলির স্টল দিয়েছিল উইমেন স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী দীপা পাল এবং অর্পিতা বারুই সহ চার ছাত্রী। নেপালি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রীরা কোরিয়ান চিল্লি ওয়েল, চা, পাঁপড়, সেলরুটি, আলুর দম রেখেছিল স্টলে। বোটানি বিভাগের সংগ্রহ করা প্রায় ২০০ধরনের ধানের প্রদর্শনী রাখা হয়েছিল।



