Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়ার জের! আমবাগানে বধূর মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

পরকীয়ার জের! আমবাগানে বধূর মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় রাস্তার ধারে আমবাগান থেকে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম শরিফা বিবি (২৫)। তাঁর বাপের বাড়ি হরিহরপাড়ার ইমামনগর এলাকায়। শঙ্করপুর গ্রামের এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে দশ বছর আগে বিয়ে হয় তাঁর। বৃহস্পতিবার সকালে বাপের বাড়ি থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে লোচনপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে শরিফার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, জামাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের জন্য নিজের স্ত্রীকে খুন করে দেহ আমবাগানে ফেলে দিয়েছে। হরিহরপাড়া থানার পুলিস গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস ওই বধূর শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হতো শরিফার। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসে তিনি ইমামনগরে বাপের বাড়িতে ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় শরিফার স্বামী সেখানে হাজির হয়। রাতে স্বামীর সঙ্গে শ্বশুড়বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হন তিনি। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় একটি আমবাগান থেকে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে লোচনমাটি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ওই মহিলার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিসকে খবর দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, এই মহিলাকে খুন করে আমবাগানে দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি আমগাছে ওড়না ঝোলানো ছিল। পুলিস এসে ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হরিহরপাড়া থানার পুলিস প্রথমে দেহ ময়নাতদন্ত না করেই কবর দিয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের লোকজনকে জোরাজুরি করে। মৃতের বাপের বাড়ির লোকজন এবং গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখালে, পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। 
মৃতের বাবা মুরসেলিম শেখ বলেন, জামাই খুন করেছে। মোবাইলেও নাকি সেই ভিডিও আছে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা একসঙ্গে জড়িত। আমার মেয়েকে খুন করে আমবাগানে দেহ ফেলে দিয়েছে। বিয়ের পর থেকে অশান্তি হতো। মেয়েকে খেতে দেবে না, সংসারে থাকতে দেবে না, এসব ভয় দেখাত। জামাইয়ের অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সে একবার জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়েকে বের করে দিয়েছিল। তারপর আমরা সেখানে গিয়ে সমস্যা মেটাই। এদিন পরিকল্পনা করে আমার মেয়েকে আমার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে খুন করেছে। আমরা এর বিচার চাই। 
মৃতের কাকা হায়দার মণ্ডল বলেন, ভাইজিকে দশ বছর আগে বিয়ে দেওয়া হয়। ওর ছোট দুই মেয়ে আছে। জামাই রাজমিস্ত্রির কাজ করত। নিজের এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতে গিয়েও কাজ করত। ফোনে অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে কথা বলত, সেই নিয়ে আমার ভাইজি আপত্তিও জানিয়েছিল। তাই এই ঘটনা ঘটেছে। ভাইঝির শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সকলে জড়িত আছে।  মৃতের দাদা রাফিউল মণ্ডল বলেন, থানায় খুনের অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিস ঠিকঠাক তদন্ত করবে কি না জানি না। প্রথম থেকেই পুলিস অসহযোগিতা করছে। সকালে পুলিস দেহ তুলে নিয়ে মাটি দিয়ে দেওয়ার কথা বলে। পরে গ্রামবাসীদের চাপে পড়ে পরে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। আমার বোনের স্বামীর তো অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই গাঁজা ও মদ খেত। নেশা করে বাড়িতে এসে আমার বোনের উপর নির্মম অত্যাচার চালাত।
সম্পর্কিত সংবাদ