সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ঘরের ভিতর থেকে বেসরকারি স্কুলের এক শিক্ষিকার অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো নবদ্বীপের পাকাটোল রোডে। শনিবার রাতে ভারতী সাহা রায় নামে ৩১ বছরের ওই শিক্ষিকাকে নিজের বাড়ির ভেতরেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তাঁর মা তন্দ্রাবতী সাহা রায়। এরপর স্থানীয় লোকজন নবদ্বীপ থানার পুলিসকে খবর দেয়। দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভারতীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাকাটোল রোডে বাড়িতেই বিধবা মাকে নিয়ে থাকতেন ভারতী সাহা রায়। স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকতা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ পাকাটোল রোডের বাড়ি থেকে শনিবার সন্ধ্যায় বের হন । রবিবার একটি অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ থাকা মায়ের সঙ্গে পোড়ামাতলায় উপহার কিনতে গিয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। এরপর পোড়ামাতলা থেকে মায়ের আগেই একলা বাড়ি ফিরে আসেন ভারতী। তাঁর মা তন্দ্রাবতী দেবী অনেকটা পরে বাড়ি ফেরেন। তিনি বাড়ি ফিরে এসে দেখেন মেয়ের ঘরের দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় যুবকদের বিষয়টি জানান। এরপর দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে খাটের নিচ থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্রুত নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতি সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা দলীয় কার্যালয়ে ছিলাম। সেই সময় এলাকার বাসিন্দা ভারতীদেবীর মা তন্দ্রাবতী দেবী আমাদের ঘটনাটি জানান। এরপর আমরা সকলে ওই বাড়িতে যাই। স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ভারতীকে উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলেও ওকে বাঁচানো যায়নি। ঠিক কি কারণে অগ্নিদগ্ধ হলেন তা ওই শিক্ষিকার বাড়ির লোকজন বুঝে উঠতে পারছেন না। নবদ্বীপ থানার পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। রবিবার মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিস।