Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

না জানিয়েই দান করা জমিতে বেসরকারি সংস্থার ভূমিপুজো

বাম আমলে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের নতুনডি পঞ্চায়েতের দূরমটের বাসিন্দারা ভারী শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। তবে সেখানে শিল্প হয়নি। সেই জমি পড়েই ছিল।

না জানিয়েই দান করা জমিতে বেসরকারি সংস্থার ভূমিপুজো
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বাম আমলে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের নতুনডি পঞ্চায়েতের দূরমটের বাসিন্দারা ভারী শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন। তবে সেখানে শিল্প হয়নি। সেই জমি পড়েই ছিল। বুধবার সেই জমিতে একটি শিল্প সংস্থা ভূমিপূজার আয়োজন করে। গ্রামবাসীদের না জানিয়ে শিল্প সংস্থার ভূমিপূজাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে পূজা আটকে দেন। খবর পেয়ে রঘুনাথপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর দূরমট গ্রামের ধর্মরাজ মন্দিরে পুজো দিয়ে কারখানার জমিতে পূজা করা হয়। শিল্প সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তীকালে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে বড় করে ভূমিপূজা করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুরে শিল্পনগরী করার জন্য বাম সরকার দূরমট, সিমলন, হুড়রা, কুমড়ুগোড়া প্রকৃতি গ্রামের বাসিন্দাদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করেছিল। সীমানা প্রাচীরও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে কোম্পানি কারখানা করার জন্য জমি নিয়েছিল, তারা পরবর্তীকালে পিছিয়ে আসে। জমিটি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকে শিল্প হয়নি। বাসিন্দারা বারবার প্রশাসনকে শিল্প স্থাপনের আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি। এদিন হঠাৎই দেখা যায় একটি কোম্পানি সেই জমিতে ভূমিপূজার আয়োজন করেছে। গ্রামের বাসিন্দা উৎপল পরামানিক, বানেশ্বর গাঙ্গুলি বলেন, জমি দেওয়ার পরেও শিল্প হয়নি। শিল্পের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এলাকায় ভালো শিল্প হোক। কিন্তু এদিন হঠাৎ দেখতে পাই একটি শিল্প সংস্থা সেখানে ভূমিপূজার আয়োজন করেছে। অথচ ওই শিল্প সংস্থার তরফ থেকে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে এলাকায় কী ধরনের, কোন শিল্প হচ্ছে তা নিয়ে আমরা ধোঁয়াশায় রয়েছি। তাই শিল্প সংস্থাটিকে জানানো হয়েছে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করার পর, পরিবেশ বান্ধব কারখানা হলে তবেই কাজ হবে। তা না হলে দীর্ঘ আন্দোলন চলবে। শিল্প সংস্কার তরফ থেকে সন্দীপ শেঠ জানিয়েছেন, কারখানা করার জন্য প্রশাসনের থেকে সবরকম অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সরকার কারখানার জন্য মোট ৪০০ একর জমি দিয়েছে। সেখানে আয়রন অ্যান্ড স্টিল কারখানা হবে। মোট চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এলাকায় প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা অবশ্যই করা হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ