দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ঘোষণাতেই কি শেষ শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল করিডরের নির্মাণ? আপাতত এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চা রেল বিশেষজ্ঞ মহলে। জানা যাচ্ছে যে, অন্তত মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এসংক্রান্ত আর কোনো প্রকল্পে হাতই দেবে না নরেন্দ্র মোদি সরকার। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রেও এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলার হাইস্পিড রেল প্রকল্পটি নিয়েই রীতিমতো সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শুধুই শিলিগুড়ি-বারাণসী রুট নয়, দেশজুড়ে মোট সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর রয়েছে কেন্দ্রের ঘোষণার তালিকায়। আদৌ কি সেগুলির দিনের আলো দেখা সম্ভব হবে? এ প্রশ্ন এখন বড়ো হয়ে উঠছে।
এর মূল কারণ মুম্বই-আমেদাবাদ রুটে বুলেট ট্রেন বা হাইস্পিড রেল করিডর প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা। তা কবে সম্পূর্ণ রূপায়িত হবে, কেউ জানে না। উল্লিখিত করিডরের একটি অংশের উদ্বোধনে আরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে রেলমন্ত্রক। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের আগস্ট মাসে ওই রুটে আংশিক ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্প চালুর ব্যাপারে অন্তত এখনো পর্যন্ত কোনো দিশানির্দেশ রেলের কাছে নেই। এই পরিস্থিতিতে যদি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অন্যগুলিকে অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠতে বাধ্য। রেলমন্ত্রক এবিষয়ে নীরব। তবে রেল বোর্ড সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, একবার ঘোষণা যখন হয়েছে, তখন সেইমতো প্রকল্পের কাজও এগবে। আপাতত ধাপে ধাপে সবক’টি হাইস্পিড রেল করিডর প্রকল্পের ডিপিআর (ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) তৈরির কাজে হাত দেওয়া হবে।
শিলিগুড়ি বারাণসী ছাড়া অন্য ছ’টি প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল করিডর প্রকল্প কোনগুলি? রেলমন্ত্রক জানিয়েছে যে, সেগুলি হল ১) মুম্বই পুনে, ২) পুনে হায়দরাবাদ, ৩) হায়দরাবাদ বেঙ্গালুরু, ৪) হায়দরাবাদ চেন্নাই, ৫) চেন্নাই বেঙ্গালুরু এবং ৬) দিল্লি বারাণসী। অর্থাৎ, বারাণসীতে একবার বুলেট ট্রেন পাল্টে যেকেউ দিল্লি থেকে প্রায় সরাসরি শিলিগুড়ি চলে আসতে পারবেন। একারণে এই হাইস্পিড রেল করিডর প্রকল্পটি নিয়ে উত্তরবঙ্গবাসীর উৎসাহও রয়েছে পুরোমাত্রায়।