সংবাদদাতা, মানিকচক: ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত মানিকচকের এনায়েতপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। বহিরাগত যুবকদের বেধড়ক মারে গুরুতর আহত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক মহম্মদ বদিউজ্জামান। মঙ্গলবার এই ঘটনার পর হামলাকারী এক যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মানিকচক থানায়। তবে, বিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।
পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন ধরে বহিরাগত যুবকরা কটূক্তি, অশ্লীল ইঙ্গিত করছিল বলে মৌখিকভাবে প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিলেন ছাত্রীরা। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ স্কুলে ঢোকার সময় প্রধান শিক্ষক দেখেন একটি বাইকে তিন যুবক স্কুলের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে। কেন দাঁড়িয়ে রয়েছে জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেয়নি তারা। যুবকদের সেখান থেকে সরে যেতে বলতেই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বচসা শুরু করে। সেই সময় মোবাইলে যুবকদের ছবি তুলে নেন প্রধান শিক্ষক। এক যুবক ছবি ডিলিট করতে হুমকি দেয় তাঁকে। না শোনায় এক অভিযুক্ত বচসা শুরু করে। তারপরেই বাইকের চাবি নিয়ে শিক্ষকের কপালে আঘাত করার পর মারধর করে। রক্তাক্ত হয়ে শিক্ষক পড়ে যেতেই ছুটে যান বিদ্যালয়ের এক অস্থায়ী কর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দেখে চম্পট দেয় দুই যুবক। তবে, স্থানীয়রা হামলাকারী যুবককে স্কুলে আটকে রেখে থানায় খবর দেন। আহত শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। তাঁর কপাল এবং চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলের বাইরে আড্ডা এবং মেয়েদের উত্যক্ত করার অভিযোগ আসছিল বহিরাগত যুবকদের বিরুদ্ধে। এদিন রুখে দাঁড়ানোয় আমার উপর হামলা করেছে। অভিযুক্তরা ধরমপুরের বাসিন্দা। এই ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও মানিকচক থানায় আবেদন জানিয়েছি।
একজন প্রধান শিক্ষকের উপর যদি হামলা হতে পারে, তাহলে ছাত্রছাত্রীরাও আর নিরাপদ নয় বলে চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবকরা। তাঁদের দাবির পরই মানিকচক থানার পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে স্কুলের বাইরে। পলাতক দুই যুবকের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিদ্যালয়সহ এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানিকচক শিক্ষানিকেতনের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জ্যোতিভূষণ পাঠক। তিনি বলেন, এরপর কি তাহলে পুলিশের নিরাপত্তায় স্কুল চালাতে হবে? প্রধান শিক্ষক যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে কুর্ণিশ। এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে রয়েছি। • আহত প্রধান শিক্ষক। - নিজস্ব চিত্র।