সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রবিবার জয়রামবাটি স্টেশনে প্রথম ট্রেন ছাড়ল। তার সাক্ষী থাকতে এদিন স্টেশনে হাজার হাজার বাসিন্দা ভিড় জমান। সবুজ পতাকা নেড়ে ট্রেনের চাকা গড়াতেই উচ্ছ্বাসে ভাসে গোটা স্টেশন চত্বর। আর জয়রামবাটিতে প্রথম ট্রেনে চাপার স্মৃতি তুলে রাখতে শয়ে শয়ে বাসিন্দা এদিন টিকিট কেটে ট্রেনের সওয়ারি হন। তাঁদের সিংহভাগই পরের স্টেশনে নামেন। কেউ কেউ বিষ্ণুপুর পর্যন্ত চলে যান।
জয়রামবাটির এক ব্যক্তি ওই ট্রেনে চেপে শ্বশুরবাড়ি রওনা দেন। এদিন সিঙ্গুর থেকে প্রধানমন্ত্রী রিমোটে বোতাম টিপে জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন সোনামুখী ও ইন্দাসের বিধায়ক দিবাকর ঘরামি ও নির্মল ধাড়া। এছাড়াও পূর্ব রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের আগে রেলের তরফ থেকে এদিন স্টেশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
এদিন দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ জয়রামবাটি থেকে ট্রেন ছাড়ে। তার আগে থেকেই একটি সুসজ্জিত ট্রেন স্টেশনে দাঁড় করানো ছিল। বেলার দিকে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা চলে আসেন। জয়রামবাটির বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা তাতে অংশ নেন। বেলা দু’টো বেজে ৪৫মিনিটে ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল। তাই দুপুর দু’টো বাজতেই হাজার হাজার বাসিন্দা জয়রামবাটি স্টেশনে ভিড় জমান। কয়েকশো বাসিন্দা এদিন রীতিমতো লাইন দিয়ে টিকিট কাটেন। তবে অধিকাংশই পরের স্টেশন বড়ো গোপীনাথপুর পর্যন্ত টিকিট কেটেছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের অনুভুতি উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। অনেকেই সোশাল মিডিয়ায় লাইভ করে বন্ধু, বান্ধবীদের ওই আনন্দের শরিক করেন। এদিন স্টেশনে উপস্থিত পদ্ম বিধায়ক দিবাকর ঘরামি বলেন, জয়রামবাটির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মুখিয়ে ছিলেন। অবশেষে তাঁদের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জয়রামবাটির মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করলেন। তার জন্য আমরা এবং জয়রামবাটির মানুষ তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। এদিন জয়রামবাটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে মৌসুমী রায় বলেন, আজ আমাদের কাছে খুবই আনন্দের দিন। এতদিন জয়রামবাটি থেকে সড়কপথই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। এবার থেকে ট্রেনে কম সময়ে ও কম খরচে যাতায়াত করা যাবে। ট্রেনে সওয়ার অনেকের মধ্যে সিহড়ের বাসিন্দা দেবদুলাল গুঁই বলেন, বিয়ের পর থেকেই বাসে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছি। তবে প্রথমদিনেই ট্রেনে চেপে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই এদিন জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুরে ট্রেনেই যাচ্ছি। নিজস্ব চিত্র