Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষায় বঙ্গে এসেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নীরব রইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, সভার দিন থেকেই জল ছাড়া বাড়াল ডিভিসি

‘বিকাশিত ভারত গড়তে পশ্চিমবঙ্গকে প্রয়োজন। বাংলায় নদী রয়েছে। বাংলায় সমুদ্র রয়েছে। বাংলা একটা সময়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের কেন্দ্র ছিল।’

বর্ষায় বঙ্গে এসেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নীরব রইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, সভার দিন থেকেই জল ছাড়া বাড়াল ডিভিসি
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৮:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘বিকাশিত ভারত গড়তে পশ্চিমবঙ্গকে প্রয়োজন। বাংলায় নদী রয়েছে। বাংলায় সমুদ্র রয়েছে। বাংলা একটা সময়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের কেন্দ্র ছিল।’ নদীমাতৃক বাংলার জয়গাথা শোনালেও এখানকার নদী সংস্কার নিয়ে টুঁ শব্দ করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি যখন  দুর্গাপুরে সভা করছেন, তখন বাংলার ঘাটাল, খানাকুল জলের তলায়। তবু বাংলার বন্যা নিয়ন্ত্রণে কোনও শব্দ খরচ করেননি দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের সর্বোচ্চ কর্তার বাংলায় সভার দিনেই মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের আপত্তি জানানোর পরও তারা জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েই চলেছে। 

Advertisement

শুক্রবার মোদিজির সভার দিন থেকেই দু’টি বাঁধ থেকে মোট ৬৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। মা‌ইথন ও পাঞ্চেত থেকে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৩৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। যার জেরে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও ৬৪ হাজার ২৫০ কিউসেক হারে জল ছাড়তে হচ্ছে। তাতে খানাকুলের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দামোদরের বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গড়ে ওঠে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার। সেই বাঁধ পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলধারণ ক্ষমতা তল্লানিতে ঠেকেছে। ফলে, যে পরিমাণ অতিরিক্ত জল বাঁধে জমা হয়, তা ছেড়ে দিতে হয়। এহেন অবস্থায় বাঁধ থেকে পলি তোলা এবং নদী সংস্কার করার দাবি বারংবার জানিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কথা কানেই তোলেনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। উল্টে রাজ্যকে না জানিয়েই ডিভিসির বাঁধগুলি থেকে যথেচ্ছ জল ছাড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের দিনও সেই রীতি বজায় থাকল। 
প্রধানমন্ত্রী বাংলায় আসার আগে জল ছাড়া হচ্ছিল ৫৭ হাজার কিউসেক হারে। তিনি আসার পর তার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫ হাজার কিউসেক হারে। তৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখন বাঁধগুলিতে যে পরিমাণ জল ঢুকছে, অর্থাৎ ‘ইন-ফ্লো’ যা রয়েছে, তার থেকে বেশি ছাড়া হচ্ছে।
তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান করা নিয়ে দিনের পর দিন দাবি জানানো হলেও, প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেননি। ডিভিসি বাঁধ সংস্কারের কথা বলে বাংলাবাসীকে তো স্বস্তি দিলেন না, জল ছাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হল। 
বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৃষ্টি হলে তো নদীতে বইবেই। বেপরোয়া বালি লুট, নদীর জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণে প্রশ্রয় দিয়েছে তৃণমূল। তারজন্যই সমস্যা বাড়ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ