সংবাদদাতা, ইটাহার: কালীপুজোর আগে পাঁঠা বিকোচ্ছে ৬-২০ হাজার টাকায়! পুজোর ঠিক আগের দিন ইটাহারের দুর্গাপুর হাটে পাঁঠার চাহিদা তুঙ্গে। ইটাহারের ১০৯ বছরের পুরানো শ্রীশ্রী জয়কালী ঠাকুরানীর পুজোয় মনস্কামনা পূরণে কয়েক শতাধিক ভক্ত পাঁঠা মানত করেন। এছাড়াও ইটাহারের অধিকাংশ কালী পুজোতে রয়েছে বলি প্রথা। তাই প্রতিবছরই এই সময় বিপুল পরিমান পাঁঠার প্রয়োজন হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর হাটে পাঁঠার দাম অনেকটাই চড়া। বিক্রেতাদের কথায় কালীপুজোর আগে পাঁঠার দাম বেড়ে যায়। তবে দামকে তোয়াক্কা না করে কালীপুজোর প্রাক্কালে ইটাহারের বিভিন্ন হাটে পাঁঠা কিনতে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ।
ইটাহারের দুর্গাপুর হাটে কালীপুজোর প্রাক্কালে পাঁঠা নিয়ে ভিড় করেন শতাধিক বিক্রেতা। এই হাট শুধু ইটাহার তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী বিহারের কাটিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বিক্রেতারা আসেন। দুর্গাপুর হাট পাঁঠার বিকিকিনির জন্য বিখ্যাত। চাহিদা অনুযায়ী এদিন কালো পাঠার দাম ছিল সব থেকে বেশি। দাম খানিকটা কম সাদা ও দুই রঙের পাঁঠার। এদিন বড়ো কালো পাঁঠা এদিন প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সেই তুলনায় বড়ো সাদা পাঁঠা প্রায় ১৭ হাজার, দুই রঙের পাঁঠা প্রায় ১২-১৪ হাজারের মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
ইটাহারের এক ক্রেতা সুদেব কর্মকার বলেন, এবছর পাঁঠার দাম খানিকটা বেশি। কিন্তু কিছু করার নেই। কালো পাঁঠা না পেয়ে ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটা সাদা পাঁঠা কিনলাম।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বিক্রেতা সুধীর বর্মন বলেন, পুজোর আগে দাম খানিকটা বেশি। তবু চাহিদা অনুযায়ী কালীপুজোর কয়েক মাস আগে থেকে পাঁঠা জোগাড় করে রেখে হাটে বিক্রি করতে এসেছি। এবছর ৭টি পাঁঠা প্রায় এক লক্ষ টাকায় বিক্রি করলাম।
হাটে না গিয়ে বাড়িতেই পাঁঠা বিক্রি করছেন অনেক গৃহস্থ। শখ করে বছর খানেক বাড়িতে পালন করে কালীপুজোর আগে সেই পাঁঠা বিক্রি করছেন। গৃহস্থদের কাছে ব্যবসায়ীদের তুলনায় পাঁঠার দাম কম। ইটাহারের নারকেল পাড়ার শম্ভু সরকার বলেন, বাড়ি থেকে ৪টি পাঁঠা ৬-১২ হাজার টাকায় বিক্রি করলাম। দূর-দূরান্তের মানুষ এসে খুঁজে খুঁজে পাঁঠা কিনে নিয়ে গেলেন!



