মূল্যবৃদ্ধির জেরে গ্রামীণ ভারতে কমছে সঞ্চয়, রিপোর্ট নাবার্ডের, খরচের ৫৩.৫ শতাংশই খাদ্যপণ্যে
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে গ্রামীণ ভারতের পরিবারগুলির সঞ্চয় কমছে। বাড়ছে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ। ‘রুরাল ইকনমিক কন্ডিশনস অ্যান্ড সেন্টিমেন্টস’ শীর্ষক সমীক্ষায় এমনই জানাল ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (নাবার্ড)। দেশের ২৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬০০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে বলা হয়েছে,  গ্রামের একটি পরিবারের আয়ের ৫৩. ৫ শতাংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে খাদ্যপণ্যের জন্য। শুধু চলতি বছরই নয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই গ্রামীণ এলাকায় পরিবারগুলিকে ব্যয়ের ৫২.৪ থেকে ৫৬.৭ শতাংশ টাকা খাদ্যপণ্যের জন্য খরচ করতে হচ্ছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি পরিবার (৩২.১ শতাংশ) জানিয়েছে যে, গত এক বছরে তাদের আর্থিক সঞ্চয় কমেছে। মাসিক আয়ের মাত্র ১২.৬ শতাংশই সঞ্চয় করতে পেরেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পরে এটাই সর্বনিম্ন। আয়ের ৬৫ শতাংশই সব ধরনের খরচে ব্যবহার হয়েছে, আর ১৩.২ শতাংশ খরচ হয়েছে ঋণ পরিশোধে। সমীক্ষায় মাত্র ২৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে গত বছরের তুলনায় তাদের আয় বেড়েছে।

Advertisement

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে ঋণ নেওয়ার হার ২৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২.৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশের বেশি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে 
ঋণ নিয়েছেন। তবে, আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির বাইরে ঋণ নেওয়ার 
পরিমাণ জুলাইয়ের থেকে কমে ২২.১ শতাংশ হয়েছে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের তথ্য উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির হার জুলাই মাসে ছিল ৪.৮৪ 
শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে পৌঁছেছে ৬.০৮ শতাংশে।
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, গ্রামের সমৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারের দাবি কেন্দ্রেরই প্রতিষ্ঠান নাবার্ডের সমীক্ষায় মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষ ১৮.৩ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক সুদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ, কেন্দ্র এই বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করতেই নারাজ।