পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে রাজ্যগুলি, চলতি অর্থবর্ষে খরচ ছুঁতে পারে ৮.৫ লক্ষ কোটি
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিকাঠামো খাতে রাজ্যগুলির বিনিয়োগে জোরালো গতি আসতে চলেছে। একটি নামজাদা ক্রেডিট রেটিং সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির মোট মূলধনী খরচ বেড়ে প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। কেন্দ্রের কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা এবং রাজ্যগুলির হাতে তৈরি হওয়া আর্থিক সুযোগই এই বৃদ্ধির মূল ভরসা। তবে অর্থ ঠিক সময়ে ছাড়া এবং কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগবে না বলে সতর্কও করেছে সংস্থাটি। ১৮টি রাজ্যের বাজেটের হিসাব খতিয়ে দেখে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। এই রাজ্যগুলি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ৯০ শতাংশ ধরে রেখেছে, যার মধ্যে আছে পশ্চিমবঙ্গও। 

Advertisement

রিপোর্টটি বলছে, মূলধনী খরচে বৃদ্ধির হার গত অর্থবর্ষের প্রায় ৮.৬ শতাংশকে ছাড়িয়ে যাবে। রাজ্যগুলি বাজেটে ধরা মোট মূলধনী খরচের প্রায় ৮৪ শতাংশ খরচ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত অর্থবর্ষে এই হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ। এই পূর্বাভাসের নেপথ্যে বড়ো ভূমিকা রয়েছে কেন্দ্রের ‘স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট’ প্রকল্পের। ২০২১ অর্থবর্ষে চালু হওয়া এই প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে সাধারণ ঋণের সীমার বাইরে ৫০ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। রিপোর্টটি বলছে, এই প্রকল্পে অর্থ ব্যবহারের হার ভালো। 
অন্যদিকে, সন্তোষজনক জিএসটি আদায় এবং কেন্দ্র থেকে কর বণ্টনের মাধ্যমে পাওয়া টাকা এই কাজে সাহায্য করবে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসের হিসাবও এই আশা জোরদার করছে। এই সময়ে মূলধনী খরচ বছরে প্রায় ৮.৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে পরিকাঠামোর সব খাতে বৃদ্ধি একরকম হবে না। 
এবারের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে চলেছে শহরের পরিকাঠামো। পরিবহণ, মূলত রাস্তা ও সেতু এখনও মোট মূলধনী খরচের সবচেয়ে বড়ো অংশ, প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এর পরেই রয়েছে জল সরবরাহ, স্যানিটেশন, আবাসন ও নগরোন্নয়ন এবং সেচ। বাকি অর্থ যাচ্ছে গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষার মতো খাতে। পরিকাঠামো বাড়লে তা কাজের সুযোগও বাড়াবে, বলছে রিপোর্ট।