নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কেয়ারএজের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট। আর তাতেই বিস্তর চাপে মোদি সরকার। কারণ, এই রিপোর্টে বেআব্রু হয়ে গিয়েছে দেশের আর্থিক হাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসেই কেন্দ্রের রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ৭ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা! অঙ্কটা গোটা বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ৪২.১ শতাংশ! গত বছর একই সময়ে এই ঘাটতির হার ছিল ৩৬.৫ শতাংশ। পাঁচ বছরে প্রথম ছ’মাসে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি। এখানেই শেষ নয়। রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, অর্থবর্ষ শেষে ঘাটতি বাজেটের থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বেশি হতে পারে। এই ঘাটতির পরিমাণ মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির ৪.৩ থেকে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছোতে পারে।
এর কারণ কী? প্রথম অবশ্যই কর আদায়ে ধাক্কা। বাজেটে ধরা হয়েছিল, কর আদায় ৯.৪ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু প্রথম ছ’মাসে তা বেড়েছে মাত্র ৬.১ শতাংশ। আয়কর আদায়ে লক্ষ্য ছিল ১৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি। কিন্তু হয়েছে মাত্র ৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের থেকে কর আদায়ের যে বিরাট স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। পাশাপাশি আবার পণ্য ও পরিষেবা কর আদায় কমেছে ৫.৫ শতাংশ। আবগারি শুল্ক থেকে আয় কমেছে ২২.৩ শতাংশ। যেখানে বাজেটে ১৩.৮ শতাংশ বাড়ার কথা বলা ছিল। সব মিলিয়ে মোট কর আদায়ে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে বলে অনুমান করেছে কেয়ারএজ। খরচের ছবিটা আরও উদ্বেগের। ভরতুকি বাবদ খরচ বাজেটের চেয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি হতে পারে। খাদ্য ভরতুকি বেড়েছে ১৬ শতাংশ, সার ভরতুকি বৃদ্ধি ১১.২ শতাংশ। অথচ বাজেটে দাবি করা হয়েছিল, দুটোই কমবে। অর্থাৎ সরকারের আন্দাজই মিলছে না।
বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার ঘাটতি ঢাকতে এখন রিজার্ভ ব্যাংকের লভ্যাংশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরে আরবিআইয়ের লভ্যাংশ ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে ৫৬ হাজার কোটি টাকা তুলে ফেলা হয়েছে, যা পুরো বছরের লক্ষ্যের ৭০ শতাংশ। আইডিবিআই ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে আরও ২৬ হাজার কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য, রিজার্ভ ব্যাংকের টাকা আর সরকারি সম্পত্তি বিক্রির টাকা দিয়ে ঘাটতি ঢাকার এই পদ্ধতি টেকসই নয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে কারণ দেখিয়ে সরকার দায় এড়াতে চাইলেও, কর আদায়ে পিছিয়ে পড়া, ভরতুকি খাতে বেলাগাম খরচ এবং বাজেটের ভুল হিসাবই যে আসল সংকট, তা এই রিপোর্টে স্পষ্ট। নজর করার মতো বিষয় হল, বাজেটের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি তহবিলের ঘোষণা করেছিলেন—ইকনমিক স্টেবিলাইজেশন ফান্ড। রিপোর্টে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাজেট ঘাটতি ১ লক্ষ কোটি ছাপিয়ে যাবে। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কি সিঁদুরে মেঘ দেখেই কেন্দ্র ওই তহবিল গঠন করে রেখেছে? যদি ঘাটতি ওই অঙ্কেই পৌঁছয়, তাহলে হয় তহবিলের টাকা দিয়ে অর্থনীতি সামাল দিতে হবে। না হলে ধার করতে হবে বাজার থেকে।



