শিল্পের জন্য জমি দিলে মিলবে কোম্পানির শেয়ারও: মুখ্যমন্ত্রী, টাটার বদলে সিঙ্গুরে অশোক লেল্যান্ড?
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীবারে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্যের নয়া শিল্প নীতি বা ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি, ২০২৬’ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনের ইকোপার্কের ‘উৎসরি’তে সেই অনুষ্ঠানের সাক্ষী এক ঝাঁক শিল্পপতি। কিন্তু, বিনিয়োগ টানতে উৎসাহ ভাতা নিশ্চিত করার থেকেও বেশি জরুরি হল জমি। সেই জমি নিয়ে নতুন নীতি যে খুব শীঘ্রই আসছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে নবান্ন সূত্রে। ডবল ইঞ্জিন বাংলার নয়া শিল্প নীতিতে ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে ভারী শিল্পের জন্য একগুচ্ছ উৎসাহ ভাতা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

Advertisement

তবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা এড়িয়ে শিল্পপতিরা জমি পাবেন কী করে? শিল্পনীতি প্রকাশের সূত্র ধরেই এই বিষয়ে রাজ্য কী ভাবছে, এদিন তা জনসমক্ষে নিয়ে এলেন শুভেন্দু। সাফ জানালেন, শিল্পের জন্য জমি দিলে, মিলবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারও। পাশাপাশি টাটার ছেড়ে যাওয়া সিঙ্গুর নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, ‘অশোক লেল্যান্ড সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু তো একটা হবেই সিঙ্গুরে।’ নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু স্পষ্ট বলেছেন, ‘শিল্পের জমি পেতে কৃষকদের উপর গুলি চালানো হবে না। আবার শিল্পপতিদের জমি পেতে কোনো সহযোগিতা না করে, সরাসরি জমি কিনে নেওয়ার কথাও বলবে না সরকার। আমরা ল্যান্ড পারচেজ, ল্যান্ড পুলিং এবং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করব। কৃষকদের থেকে নেওয়া জমি ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’এর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অদক্ষ ক্ষেত মজুরদের সেই কারখানায় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সুনিশ্চিত করা হবে।’  
জমি কেনার তহবিল কীভাবে? ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন,  নাবার্ড-এডিবির মতো সংস্থার সহযোগিতায় জমি কেনার প্রয়োজনীয় ‘ফান্ড’-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা ব্যবহার করে রাজ্যে নয়া ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি হবে। তবে বর্তমানে শিল্পের চাহিদা মেটানোর মতো জমি রাজ্যের হাতে রয়েছে, তাও জানান। 
নয়া শিল্পনীতির অন্যতম আকর্ষণ হল, মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে ১০ বছরের জন্য ১০০ শতাংশ ইপিএফ প্রদান। একই সঙ্গে জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়, লিজ ভাড়া সহায়তা এবং স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফিতেও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এক হাজার কোটি টাকার বেশি অনুমোদিত বিনিয়োগে রাস্তা, জল, নিকাশি ও বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত পরিকাঠামোগত সহায়তা মিলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে বিশেষ সুবিধা থাকছে। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, সবুজ হাইড্রোজেন, প্রতিরক্ষা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ, বিশেষ ইস্পাত ও জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে বিনিযোগ টানতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য। এদিন বাংলার জন্য নয়া শিল্প স্লোগানও বেঁধেছেন শুভেন্দু—‘ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল’।