নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীরা জরুরি প্রয়োজনে যাতে দ্রুত ও সহজে ঋণ পেতে পারেন তার জন্য উদ্যোগী হল সরকার। রিজার্ভ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক এবং নন ব্যাংকিং ফিনান্স কর্পোরেশন (এনবিএফসি) থেকে এই ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে এব্যাপারে তাদের চুক্তি হবে। কার্যত ‘গ্যারেন্টার’ হবে রাজ্য। এর জন্য অর্থদপ্তর ইতিমধ্যে আগ্রহপত্র বা ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিমের’ বিজ্ঞপ্তিও একইসঙ্গে জারি করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরে গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি শ্রেণির কর্মী আধিকারিকদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ট্রেজারি/পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে এইচআরএমএস/আইএফএমএস পোর্টালের মাধ্যমে বেতন হওয়া কর্মীরা আপাতত এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। পরবর্তীকালে অন্য শ্রেণির সরকারি কর্মী বা সরকারি সংস্থাগুলির কর্মীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবারে চিকিৎসা, পড়াশোনাসহ জরুরি প্রয়োজনে অনেকসময় সরকারি কর্মীদের হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হলে বাধ্য হয়ে বেশি সুদে নানা জায়গা থেকে টাকা ধার করতে তাঁরা বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের বাঁচানোর জন্য নতুন স্কিমটি আনা হচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাটি অর্থদপ্তরের আইএফএমএস পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সেখানে ঋণদানকারী ব্যাংক বা এনবিএফসিগুলি যুক্ত থাকবে। ঋণ অনুমোদনের পর তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবে। ঋণের টাকা পরিশোধ হবে কর্মীর বেতন থেকে টাকা কেটে নিয়ে।
অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে। ঋণের অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে কর্মীর বেতনের উপরে। স্বল্প মেয়াদি ঋণ নিলে তা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কর্মী যা বেতন পান তার ৫০ শতাংশ এই খাতে ঋণ নেওয়া যাবে। এখানে কোনো সুদ দিতে হবে না। শুধু প্রসেসিং ফি বাবদ ১ শতাংশ টাকা নেওয়া হবে। দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ নিলে তার সুদ কত হবে, সেটা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ঋণ নেওয়ার সময় কর্মীরা সেটা জানতে পারবেন। দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ২ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতিমাসে যে ইএমআই হবে তা কর্মীর বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ হতে হবে। ওই কর্মীর যদি সরকারের কাছে অন্য ঋণ থাকে তবে সেটার হিসাব ধরে মাসিক পরিশোধের কিস্তি ঠিক হবে। কর্মীর যা মাসিক বেতন তার ৩০ গুণ ঋণ হিসাবে নেওয়া যাবে।



