রাজ্য সরকারের শিল্পনীতিতে আস্থা বণিকমহলের, নজর এবার রূপায়ণে
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ উৎসাহ নীতিকে স্বাগত জানাল শিল্পমহল। এই শিল্পনীতির রূপায়ণের দিকেই এবার নজর রাখতে চায় তারা। বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের বক্তব্য, এক জানালা ব্যবস্থায় ডিজিটাল ছাড়পত্র, ১০ বছর পর্যন্ত ১০০ শতাংশ এসজিএসটি সহায়তা, স্থায়ী মূলধন বিনিয়োগের ১০০-১২০ শতাংশ পর্যন্ত ইনসেন্টিভ, বিদ্যুৎ শুল্কে ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় লগ্নিকারীদের ভরসা দেবে। ভারত চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নরেশ পচিসিয়া বলেছেন, এই নীতির মূল কথা ভরসা। সময়মতো রূপায়ণ হলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, এমএসএমই শক্তিশালী হবে। 

Advertisement

মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনীশ ঝাঝারিয়া বলেছেন, এই নীতি রাজ্যে ব্যাপক বিনিয়োগ টানবে। ব্যবসা সহজ করা, জমির সহজলভ্যতা, ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি, মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আইটি, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্সে জোর সদর্থক পদক্ষেপ। 
প্যাটন গ্রুপের এমডি সঞ্জয় বুধিয়া বলেছেন, এই নীতি গেম চেঞ্জার হতে পারে। জমি আইন সরল করা, বন্ধ শিল্পের জমি কাজে লাগানো, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা, পিছিয়ে থাকা জেলায় নজর এবং প্রশাসনিক কাজে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রশংসনীয়। 
জুপিটার ওয়াগনসের এমডি বিবেক লোহিয়া বলেছেন, জমি, দ্রুত অনুমোদন এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক প্রণোদনা, এই তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, এক জানালা ও দ্রুত ছাড়পত্র ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা করার আস্থা দেবে। কেভেন্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি মায়াঙ্ক জালান বলেছেন, এই নীতি প্রকল্পের রূপায়ণ ও উদ্ভাবনের উপর জোর দিয়েছে। ওয়ান-স্টপ পোর্টাল, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট অফিসার থাকায় বিনিয়োগকারী মানসিক শান্তি পাবেন। 
জুপিটার ইন্টারন্যাশনালের সিইও ধ্রুব শর্মা বলেছেন, মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য বাড়তি প্রণোদনা এবং ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের মধ্যে সবুজ বিদ্যুতে ক্রস-সাবসিডি ও অতিরিক্ত সারচার্জ মকুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 
আইআইএম ক্যালকাটা ইনোভেশন পার্কের চেয়ারম্যান অজয় জৈন বলেন, নতুন নীতি ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্যের পরের পর্যায়ের শিল্পবৃদ্ধিতে শুধু বিনিয়োগ নয়, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনও গুরুত্ব পাবে। আবাসন শিল্প থেকেও ইতিবাচক সাড়া এসেছে। 
প্রিমার্কের এমডি ও প্রাক্তন ক্রেডাই কর্তা সিদ্ধার্থ পানসারির কথায়, বেশি শিল্প মানেই বেশি চাকরি, আর বেশি চাকরি মানেই বাড়ি, অফিসঘরের চাহিদা বৃদ্ধি। কলকাতার বাইরেও সেই সুযোগ খুলবে। 
মার্লিন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ক্রেডাই পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সুশীল মোহতা বলেছেন, এই নীতি ভালোর শুরু। আইটি, রিটেল ও লজিস্টিক্সের বৃদ্ধিতে রিয়েল এস্টেটের ভূমিকা মাথায় রেখে জমি আইন ও নগর উন্নয়ন নীতিতে সংস্কারের আশা করেছেন তিনি। 
পূর্তি রিয়েলটির এমডি মহেশ আগরওয়াল বলেন, এই নীতি আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির দিকে বড়ো পদক্ষেপ। এর ফলে শিল্প পার্ক, ওয়্যারহাউসিং, লজিস্টিক্স, বাণিজ্যিক ও আবাসন ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি হবে বলে তাঁর মত।