নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধনতেরসে সোনার দাম কমতেই বাজারে ফিরল চেনা ভিড়। গত কয়েক মাস ধরে হলুদ ধাতুর দর নাগাড়ে চড়েছে। কিন্তু, অক্টোবর থেকে তা কিছুটা নিম্নমুখী। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্সের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই কলকাতায় ২২ ক্যারেট গয়না সোনার ১০ গ্রামের দর ছিল ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৫০ টাকা। শুক্রবার তা নেমে আসে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৫০ টাকায়। কিছুটা কমেছে রুপোও। বৃহস্পতিবার যেখানে কেজি পিছু খুচরো রুপোর দাম ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা। তা শুক্রবার কমে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৫০ টাকা। উৎসবের আবহে এই সুযোগকে কাজে লগিয়েছেন ক্রেতারা। সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেন বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ধনতেরসে বিক্রির অঙ্ক প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। হীরের গয়নার বিক্রি তো রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সামনেই লগনসা। তাই বিয়ের কেনাকাটা যেমন হয়েছে, তেমনই সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ সঞ্চয়ের উপকরণ হিসাবেও সোনা কিনেছেন এই উৎসবে। বাজেটের কথা মাথায় রেখে ৯ ও ১৪ ক্যারেট সোনার গয়নার পাশাপাশি রুপোর কয়েনের বিক্রিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তথ্য বলছে, সোনার গয়না নিয়ে অনলাইন সার্চ কলকাতায় বেড়েছে ৬৭ শতাংশ, যা দেশের বড়ো শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। শুধু কলকাতা নয়, জেলাতেও এদিন কেনাকাটার ছবিটা ছিল একই রকম উজ্জ্বল। বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক টগরচন্দ্র পোদ্দার বলেন, ‘জেলায় ছোটো দোকানও এবার ভালো ব্যবসা করতে পেরেছে।’ সোনা-রুপোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দোকানগুলিতেও এদিন নজরকাড়া ভিড় ছিল। খোসলা ইনকট্রনিক্সের কর্ণধার মণীশ খোসলার কথায়, ‘ধনতেরসের আগে থেকেই আমাদের অভিজ্ঞতা বলছিল, মানুষ প্রিমিয়াম বা বেশি দামের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সেই ভিড় বেড়েছে কয়েক গুণ।’ ফলে দিনশেষে বিক্রির অঙ্কও যে অনেকটাই বাড়বে, সেব্যাপারে আশাবাদী মণীশবাবু। সার্বিক বিক্রি বৃদ্ধির কথা শুনিয়েছেন রাজ্যের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির মূল মঞ্চ কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনসের প্রেসিডেন্ট সুশীল পোদ্দারও। তাঁর কথায়, ‘এবার পেশা ও চাকুরীজীবী মানুষ হাত খুলে খরচ করেছেন। আমাদের অন্তর্বর্তী হিসাব বলছে, গতবারের তুলনায় সার্বিকভাবে ব্যবসা বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ভোগ্যপণ্য। গতবার বিক্রির পরও স্টক থেকে গিয়েছিল অনেকটাই। এবার সেই স্টকে টান পড়েছে। এটি অত্যন্ত সদর্থক দিক।’ তবে শুধু দোকান বা শো-রুম নয়, কলকাতা ও শহরতলিতে পাড়ায় পাড়ায় যাঁরা বাসনকোসনের পসরা সাজিয়ে বসেছেন, তাঁদের কাছেও ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। তাই ধনতেরস উৎসবে হাসি ফুটেছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মুখেই।



