নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: তীব্র দাবদাহের পর বৃষ্টি নামায় স্বস্তি মিলছে। চলতি সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই হাল্কা থেকে ভারি বৃষ্টি হয়েছে মুর্শিদাবাদে। তবে এই বৃষ্টির জমা জলে জন্ম নিতে পারে মশার লার্ভা। যা নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ১২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্তের পরিসংখ্যান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাপ্রদ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তবে বর্ষার শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বর্ষা শুরু হওয়ার কথা। তার আগে সর্বত্র জঞ্জাল পরিষ্কার করতে বাড়তি উদ্যোগ দরকার বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
কারণ, প্রতিবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যুও হয়। এদিকে এখন থেকেই মাঝেমধ্যে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাস্তার পাশের ড্রেন উপচে পড়ছে। ডাস্টবিন ও আবর্জনার স্তূপেও জল জমছে। সেখানেই জন্ম নেবে ডেঙ্গুর মশা। মশা নিধনের আগে বাড়ির আশেপাশে যেতে জঞ্জাল না জমে তার জন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকেরা।
জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২০ জন। তবে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। এই জেলায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে কাজ করেন। তাঁরাও ভিন জেলা এবং রাজ্য থেকে জ্বর এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে এই জেলায় আসেন। তাই ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান অন্যান্য জেলার তুলনায় একটু বেশি হয়। প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে এই রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গোটা রাজ্যের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যায় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রথম দিকে থাকে। বুধবার বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে নির্মল বাংলা মিশন প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নাও ডেঙ্গু প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি প্রজেক্টারে ময়লা আবর্জনার ছবি দেখিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করেন। ময়লা আবর্জনা কমাতে পারলে কীভাবে ডেঙ্গু এবং মশাবাহিত ও অন্যান্য রোগ কমে যাবে তার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। খুব শীঘ্রই মশার প্রভাব কমাতে জেলাজুড়ে শুরু হবে অভিযান। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং পুরসভাগুলিকেও এখন থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। খুব তাড়াতাড়ি কোথাও ছাড়া হবে গাপ্পি মাছ। বেশ কিছু জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার। ডেঙ্গু রুখতে প্রতিটি ব্লককেও আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বহরমপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা থাকে সব থেকে বেশি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না এলে এই মশাবাহিত রোগ কিছুতেই ঠেকানো সম্ভব নয় বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের।
হাসপাতালের এক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গুর লক্ষণগুলি মশার কামড়ের চার থেকে দশ দিন পরে দেখা দিতে শুরু করে। যার কারণে রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। এতে শরীরে প্লেটলেট কমতে শুরু করে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।