Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

দুর্নীতি রোধ, নাকি ভোটের প্রচার?

লোকপালের কী হল? ঘটা করে এই পদক্ষেপও তো নেওয়া হয়েছিল। লোকপালের কাজ হল, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তার প্রাথমিক তদন্ত করা এবং তারপর সিবিআইকে সুপারিশ। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীও কিন্তু পড়েন। তাহলে লোকপাল নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে কেন?

দুর্নীতি রোধ, নাকি ভোটের প্রচার?
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত: প্রথম প্রশ্ন: দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতায় সংসদের দুই কক্ষে কি সরকার ‘মন্ত্রী অপসারণ’ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারবে?

Advertisement

দ্বিতীয় প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর ৩০ দিনের হেফাজত—কুর্সিতে বসা অবস্থায় ভারতে এই সম্ভাবনা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
আচমকা বাদল অধিবেশনের শেষ পর্বে হাজির করা তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বাজার বেশ গরমই হয়ে রয়েছে। শাসক তাল ঠুকছে, বিরোধীরাও রীতিমতো তেতে আছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন অনেক। তার মধ্যেই দু’টিকে একটু বাড়তি প্রাধান্য দেওয়া আর কী! উত্তর আপাতত তোলা থাক। কিছু না বলা কথা বলে নেওয়া পর্যন্ত। তার আগে দেখে নেওয়া, সংশোধনী বিলে আছেটা কী? 
প্রথম সংশোধন সংবিধানের ৭৫ নম্বর ধারায়। এখানে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। এবং তাঁর পরামর্শ মতো রাষ্ট্রপতি তারপর নিয়োগপত্র দেবেন কেন্দ্রের অন্য মন্ত্রীদের। সংশোধনী বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সহ কোনও মন্ত্রী যদি ৩০দিন জেলে থাকেন, তাহলে ৩১তম দিনে তাঁর মন্ত্রিপদ খারিজ হয়ে যাবে। দোষ প্রমাণ না হলেও। তবে হ্যাঁ, আইন অনুযায়ী সেই অপরাধের সাজা পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতেই হবে। আর প্রধানমন্ত্রী যদি ৩০ দিন জেলে থাকেন, ৩১তম দিনে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। না হলে ৩২তম দিনে তাঁর পদ খারিজ হয়ে যাবে। দ্বিতীয় সংশোধন সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর অধীন কোনও মন্ত্রী যদি গ্রেপ্তার হন এবং ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, মন্ত্রিপদ ৩১তম দিনে খারিজ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর মতো মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও ৩১তম দিনে পদত্যাগের নিয়ম খাটবে। তবে কেন্দ্র বা রাজ্য, দুই ক্ষেত্রেই মামলার রায়ে যদি মন্ত্রীরা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাঁরা নিজেদের পদ ফিরে পাবেন। তৃতীয় সংশোধন ২৩৯এএ ধারায়। অর্থাৎ দিল্লি ও ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরির জন্য। এক্ষেত্রেও ওই এক প্রস্তাব কার্যকর হবে। এছাড়া দেশের সব কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জম্মু-কাশ্মীরকেও ‘দুর্নীতি বিরোধী’ এই পদক্ষেপের ছাতার তলায় আনা হয়েছে। 
সাধারণ মানুষের দিক থেকে দেখতে গেলে অত্যন্ত সাধু উদ্যোগ। আপনি-আমি ভোট দিয়ে নিশ্চয়ই কোনও চোর-চিটিংবাজকে ক্ষমতায় বসাতে চাইব না। আমরা রক্ত জল করে উপার্জন করি। তার উপর করও দিই। ওই করের টাকায় দেশ চলে। মন্ত্রী-আমলাদের মাইনে হয়। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা, আবাস, ১০০ দিনের কাজ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার... সব হয়। সেই অর্থই যদি কোনও মন্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া যায়, এমন দৃশ্য অবশ্যই হজম হওয়া কঠিন। কোটি কোটি টাকা তছরুপের পরও যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী জেলে বসে সরকার চালান, কিংবা তাঁর কোনও প্রতিনিধিকে কুর্সিতে বসিয়ে যান... সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অন্তর থেকে চাইব, এমন মন্ত্রী শাসকের আসনে বসুন, যাঁর সাদা জামায় দুর্নীতি বা অপরাধের কালো দাগ নেই। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে তাঁদের ক্ষেত্রে অন্যথা হবে কেন? প্রভাবশালী বলে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এই বিল যদি আইনে পরিণত হয়, তখন ক্ষমতাবানদের প্রভাব খাটানোর বিরুদ্ধে আমাদের আর কোনও অভিযোগ থাকবে না। চিত্রনাট্যে টুইস্ট এখান থেকেই শুরু হচ্ছে। কারণ, আশ্বিনের পদ্মের মতো বিকশিত হচ্ছে বিরোধীদের দাবি—এর অপপ্রয়োগ হবে। কীভাবে? একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দেখা যাক। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ইডি এবং সিবিআই যতগুলি কেস হাতে নিয়েছে, তার ৯৫ শতাংশই ‘রাজনৈতিক’। আর উল্লেখযোগ্য বিষয়, ওইসব মামলার প্রত্যেকটিই কিন্তু বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে... যাঁরা কোনও না কোনও রাজ্যের সরকারে আছেন। সিবিআইয়ের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং ইডির ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ বেড়েছে মামলার সংখ্যা। আর হ্যাঁ, সবগুলোই পলিটিক্যাল। এই মুহূর্তে দেশের ১২ জন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও না কোনও মামলা চলছে। তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে ৮৯টি, তামিলনাড়ুর স্ট্যালিনের ৪৭, কর্ণাটকের সিদ্ধারামাইয়া ১৩টি, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং সুখু চারটি, কেরলের পিনারাই বিজয়ন দু’টি এবং পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান একটি। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বিরুদ্ধ শুধু ঘোষিত মামলার সংখ্যা চার। যদিও সেগুলির একটিও ফৌজদারি মামলা নয়। বরং হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে কেসের সংখ্যা লুকিয়েছেন বলে যে সতীশ উকে মামলা ঠুকেছিলেন, তিনিই এখন কোনও কারণে জেলে আছেন। কেন্দ্রের শাসক শিবির বলতে পারে, ‘বিরোধীরাই শুধু দুর্নীতি করে। ডাবল ইঞ্জিন একটা রাজ্যেও দুর্নীতি হয় না। ফড়নবিশকেই দেখুন না, যা ফৌজদারি মামলা ছিল তাঁর বিরুদ্ধে... সব থেকেই বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছেন।’ তাতে আর বিচিত্র কী? দাবি করলে তো তার উপর ট্যাক্স চাপে না! নিয়োগ দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ১০০ দিনের কাজে অনিয়ম, রাস্তা তৈরিতে বিপুল কাটমানি, অভিযোগকারীকে খুন... এসব ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে হয়ই না! হলেও তা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। কেন? কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি এসব পাতে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। করলে তো এর সব অভিযোগই কোনও না কোনও সময় উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে উঠেছে। তারপর ধামাচাপাও পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা খানিক মিনমিন করেছে বটে, কিন্তু তাতে সিবিআই বা ইডি তদন্তের নির্দেশ জারি হয়নি। ফলে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকার নজির মাইক্রোস্কোপের তলায় খুঁজতে হবে। তাহলে সাদা চোখে, সংবিধান সংশোধনী কার্যকর হয়ে গেলে কাদের উপর কোপ পড়বে? উত্তর দিতে পারলে কোনও পুরস্কার নেই। ব্যাট আমার, বল আমার, উইকেট আমার, আর আম্পায়ারও আমার। কাজেই কে খেলবে, কে সেঞ্চুরি করবে, আর কে আউট হবে... সেটা কি মশাই আপনি ঠিক করে দেবেন নাকি? ঘুলঘুলি থেকে বন্দুক তাক করাই আছে। অর্জুন রেডি। ছোরা হাতে। সামনে তক্তাও দাঁড় করানো আছে। কে ওখানে দাঁড়াবে, সেটা মগনলালই ঠিক করবেন। ফেলুদা নয়। উনি খুব বেশি হলে প্রতিবাদ করতে পারেন। বলতে পারেন, আসল তদন্ত থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য এতকিছু। আসল তদন্ত বলতে? ওখানে গণেশের মূর্তি হতে পারে, এখানে ইন্টেনসিভ রিভিশন এবং ট্রাম্পের ট্যারিফ। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে বেশি আলোচনা করতে দেওয়াটাই বিরক্তিকর। সংবিধান সংশোধনী বিল বাজারে এসে গিয়েছে। এবার সব নজর ওইদিকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিল পেশ করেই তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রের তরফ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল, তাতেও কিন্তু এই পদক্ষেপের কথাই লেখা ছিল। তার মানে কি মোদি সরকার ধরেই নিয়েছিল, এই বিল পাশ হবে না? একবার অঙ্কটাও দেখে নেওয়া যাক। দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পেলে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হয় না। অর্থাৎ মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩৬২টি ভোট পেতেই হবে সরকারকে। এই মুহূর্তে এনডিএর সম্মিলিত আসন সংখ্যা কত? বিজেপির ২৪০টা সহ মোট ২৯৩টি। তার মধ্যে আবার অন্যতম শরিক তথা সরকারের প্রাণভোমরা চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা ঝুলছে। তিনি আপাতত সায় দিলেও ভবিষ্যতে কতটা এনডিএর সহায়ক হয়ে উঠবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে। তবে হ্যাঁ, চন্দ্রবাবু যদি বুঝে গিয়ে থাকেন, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা এনডিএর নেই, তাহলে তিনি ভোট দিতেই পারেন। সম্মান এবং জোট রক্ষার্থে। বস্তুত বিষয়টা সেদিকেই যাবে। কারণ, বিরোধী দলগুলি সমর্থন না দিলে এই সংশোধনী লোকসভায় দিনের আলো দেখবে না। আবার রাজ্যসভায় ২৪৫টির মধ্যে ১৩৩টি আসন রয়েছে এনডিএর দখলে। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেতে গেলে তাদের চাই ১৬৩টি আসন। সেও কি সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। যদি বিরোধীরা ভোটাভুটির সময় ওয়াকআউট করে, বা বিরত থাকে। তখন কিন্তু যাঁরা বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশই গণ্য হবে। আশা করা যায়, বিরোধীরা তাদের পায়ে কুড়ুল মারবে না।
তাহলে একটা বিষয় স্পষ্ট—এই সংশোধনী পাশ করানোর সম্ভাবনা বিজেপির কাছে অত্যন্ত ক্ষীণ বললেও কম বলা হয়। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ এটা জানে, আর মোদি-শাহ জানেন না? তাহলে বিল আনলেন কেন? প্রথমত, এসআইআর থেকে নজর ঘোরাতে। যেটা আগেই বললাম। আর দ্বিতীয়ত, জোরদার একটা প্রচার। আম জনতা দুর্নীতি পছন্দ করে না। বিহার এবং বাংলার বিধানসভা ভোটের আগে এই বিল বড়সড় মাইলেজ দেবে বিজেপিকে। পাশ হয়ে গেলে মোদিজি ওই দুই রাজ্যে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করবেন আর বলবেন, ‘এইবার সব দুর্নীতিবাজ নেতা জেলে যাবে।’ ইডি-সিবিআই আরও সক্রিয় হবে। কারণ, কোনও একটা মামলায় ৩০ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে জেলবন্দি রাখতে পারলেই সরকার ফেলে দেওয়া সম্ভব। যখন তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে ফিরবেন, ততক্ষণে ভোট করিয়ে নতুন সরকার গঠন হয়ে গিয়েছে। কিংবা রাষ্ট্রপতি শাসন। আর যদি পাশ না হয়? সেই স্ক্রিপ্টও রেডি। তিনি তখন বলবেন, ‘আমি তো চেয়েছিলাম। কংগ্রেস, আরজেডি, তৃণমূলই পাশ করাতে দিল না। তাহলে বুঝুন, কে দুর্নীতি চায়!’ তাহলে এর থেকে কী পাওয়া গেল? শুরুতেই যে দুটো প্রশ্ন পরের জন্য তোলা ছিল, তার প্রথমটির উত্তর। 
মনে হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী তো নিজেকেও এই বিলের আওতায় রেখেছেন। ঠিক কথা। কিন্তু এখানেও বাস্তবটা বুঝতে হবে। আপনি চাইলেই ভারতের যে কোনও থানায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পারবেন না। থানা নেবেই না। যদিও বা নেয়, তার জন্য যথাযথ প্রমাণ এবং লোকসভার স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাগবে। আর সেই অনুমোদনের জন্য কে দরবার করবে? প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেটা কি সম্ভব? এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করার এক্তিয়ার কার আছে? সিবিআইয়ের। কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং তারা দিল্লি পুলিসের অধীন। আর দিল্লি পুলিস কার নির্দেশে চলে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে ৩০ দিন হেফাজতে রাখা… স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু এটা অলীক হয়ে যাচ্ছে না? আর হ্যাঁ, প্রশ্ন আরও আছে। লোকপালের কী হল? ঘটা করে এই পদক্ষেপও তো নেওয়া হয়েছিল। লোকপালের কাজ হল, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তার প্রাথমিক তদন্ত করা এবং তারপর সিবিআইকে সুপারিশ। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীও কিন্তু পড়েন। তাহলে লোকপাল নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে কেন? অর্থাৎ এখানে পাওয়া যাচ্ছে তুলে রাখা দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরও। সঙ্গে প্রচার ও বাস্তবের ফারাক। 
বিশ্বের প্রথম সারির দুটি ব্র্যান্ড ডিয়র এবং আরমানি। ইতালির মিলানে এদের ফ্যাক্টরিতে হানা দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে তারা আবিষ্কার করে, অবৈধভাবে বসবাসকারী চীনা নাগরিকদের দিয়ে অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করানো হচ্ছে সেখানে। আর যে হ্যান্ডব্যাগ তৈরি হচ্ছে, তার খরচ মাত্র ৫৩ ইউরো। ভারতীয় অঙ্কে ৪ হাজার ৭০০ টাকার আশপাশে। আর সেটাই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ ইউরোয়! ভারতীয় মুদ্রায়? প্রায় ২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, পুরোটাই পাবলিক খাচ্ছে মার্কেটিংয়ে। প্রচারে। কার মোড়ক কত ভালো। কার চমক বেশি। কার উপস্থাপনায় চোখে বেশি ধাঁধা লাগছে। দিনের শেষে বিক্রিটাই প্রাপ্তি। তার জন্য প্রচার যে কোনও মূল্যে, যে কোনও স্তরে নিয়ে যেতে হবে। বাকিটা তো আমাদের উপর। আমরা ঠিক করব, তথ্য জানার অধিকার আইন, ১০০ দিনের কাজ, খাদ্য সুরক্ষা চাইব? নাকি নোট বাতিল, টাকার পতন, ১০৫ টাকা লিটার পেট্রল? মনমোহন সিংয়ের মতো দিকপাল প্রধানমন্ত্রী? নাকি...?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ