Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

আয়ুষ্মান বাধা দূর হল অবশেষে

পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হল। ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার পাবে চিকিৎসা সুবিধা। বিস্তারিত জানুন।

আয়ুষ্মান বাধা দূর হল অবশেষে
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অবশেষে পশ্চিমবঙ্গও যুক্ত হল আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায়। ক্ষমতায় আসার একমাসের মধ্যেই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার আরো একটি নির্বাচনি সংকল্প পূরণ করল। সোমবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই বিষয়ে একটি মউ স্বাক্ষর হল। এই উদ্যোগের সুবিধা পাবে রাজ্যের ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। দেশের প্রায় ৪২ হাজার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা। এই চিকিৎসা বিমা সুবিধার সর্বোচ্চ আর্থিক সীমা ধরা হবে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে কেন্দ্র চলতি বছরে রাজ্যকে ৯৭৬ কোটি টাকা দেবে বলে ঠিক হয়েছে। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেত ২ কোটি ৪ লক্ষ পরিবার। সেই সংখ্যা কমলেও, রাজ্যের আশা কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়েও যাঁরা কর্মসূত্রে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে এখন ভিন রাজ্যে থাকছেন, এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সম্প্রসারিত ধরা হবে তাঁদের জন্যও। আয়ুষ্মান ভারত বাংলায় চালু করা নিয়ে মমতা সরকারের লাগাতার ভুলের সংশোধনই আপাতত শুভেন্দু অধিকারীর অগ্রাধিকার।

Advertisement

আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে আরো একাধিক কেন্দ্রীয় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষ বছরের পর বছর বঞ্চিত ছিল। কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবই ছিল এর মূল কারণ। পূর্বতন রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, মোদি সরকার বঞ্চনা করছে। অন্যদিকে, মোদি সরকার এবং রাজ্যের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাবি ছিল, নবান্নের অসহযোগিতার কারণেই রাজ্যের মানুষের এই দীর্ঘ বঞ্চনা। যাই হোক, এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ডবল ইঞ্জিন সরকারের সৌজন্যে। পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে রাজ্যবাসীর নাম নথিভুক্তিই নতুন বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার। অন্য যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—১২৫ দিনের কাজ (ভিবি-জি রাম জি), আবাস, প্রধানমন্ত্রী সড়ক, পিএম মুদ্রা, পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম প্রভৃতি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বিজেপির সংকল্পপত্রেও ছিল এই সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি। ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন শুভেন্দু। বাকি সংকল্পগুলিও একে একে পূরণ করা হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। যেমন পূর্ববর্তী সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ ধাঁচেও একটি কর্মসূচি চালু হবে। সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী ১৫-১৭ জুন জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হবে, ঘোষণা করেছে নবান্ন। ৬ জুন এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তাতে বলা হয়েছে, শিবির হবে গ্রামীণ এলাকায় প্রতি সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুর এলাকায় প্রতি দশটি ওয়ার্ডের জন্য একটি। কলকাতার মতো বড়ো পুরসভাগুলির ক্ষেত্রে প্রতিটি বোরো এলাকা ধরে এই শিবির চলবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারের প্রকল্পগুলির জন্য এই শিবিরে নাম লেখানো যাবে। সব মিলিয়ে তিনদিনে রাজ্যে ২৩০০টির মতো জনকল্যাণ শিবির হতে চলেছে। 
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার জন্য প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু তিনবছর যাবৎ সেগুলি রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে রয়েছে। এবার সেগুলির যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, অতঃপর কেন্দ্রের বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। জনকল্যাণ শিবিরেই মিলবে সেই সুবিধা। অন্নপূর্ণা যোজনা, কন্যাশ্রীর মতো একাধিক প্রকল্পে নাম নথিভুক্তি, তথ্য যাচাই, পরিষেবা প্রদান এবং পুরানো অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জনকল্যাণ শিবির মারফত করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে নবান্ন। এছাড়া পূর্বতন দুয়ারে সরকার কর্মসূচিরও বেশকিছু স্কিম থাকছে এবারও। এই কর্মসূচির জন্য একটি শক্তিশালী আইটি পোর্টাল তৈরি করছে রাজ্য। তার জন্য শীঘ্রই জারি করা হবে এসওপি। গঠিত হয়েছে বিভিন্ন স্তরের কমিটি ও টাস্ক ফোর্স। সোমবার বিজ্ঞান ভবনে মউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ছিলেন কেন্দ্র ও রা঩জ্যের স্বাস্থ্যসচিব যথাক্রমে পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব ও নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের সঙ্গেও দেখা করেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সফল রূপায়ণ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়। রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা, পূর্বতন সরকারের ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গেই প্রকল্পগুলি রূপায়িত হবে এবং অবসান হবে বাংলার অর্ধশতকের বঞ্চনার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ