Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রস্তাবিত সাজা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যধিক কঠোর’, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের, ‘অপরাজিতা বিল’ ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি

রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘অপরাজিতা বিল’ ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

প্রস্তাবিত সাজা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যধিক কঠোর’, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের, ‘অপরাজিতা বিল’ ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি
  • ২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘অপরাজিতা বিল’ ফেরত পাঠালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিলে ধর্ষণের অপরাধীদের প্রস্তাবিত সাজা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যধিক কঠোর’ বলে উল্লেখ করেই ফেরত পাঠানো হয়েছে বিলটি। সেই ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত’ভাবে বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করে রাজ্যকে এর ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে। 

Advertisement

কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে? ধর্ষণের শাস্তি সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করার প্রস্তাব দেওয়া হয় অপরাজিতা বিলে। এই প্রস্তাবিত শাস্তি ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যধিক কঠোর’ বলেই মনে করছে কেন্দ্র। আর সেই কারণেই এই ক্ষেত্রে রাজ্যের ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের জন্য বয়স-ভিত্তিক শাস্তি বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে। এই প্রস্তাবও না মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র। ১২ বা ১৬ বছরের কম বয়সি মেয়েদের ধর্ষণের মধ্যে পার্থক্য করায় দাঁড়ি টানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের এই বিলে। এই ক্ষেত্রে আপত্তি তুলে রাজ্যকে জানানো হয়েছে, ‘এই শ্রেণি বিভাগ অপসারণ আনুপাতিকতার নীতি লঙ্ঘন করে, কারণ বিভিন্ন মাত্রার অপরাধের জন্য একই শাস্তি আইনত অনুপযুক্ত।’
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যাঁর উপর অত্যাচার হয়েছে, সেই ধর্ষিতা যদি মারা যান বা ঘটনার অভিঘাতে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা অচেতন অবস্থায় চলে যান তাহলে অপরাধী মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে অপরাজিতা বিলে। এই ক্ষেত্রে আপত্তিসহ কী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের? সূত্রের খবর, এই ক্ষেত্রে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে বেঁধে দিয়েছিল (বিশেষ করে মিঠু বনাম পাঞ্জাব রাজ্য, ১৯৮৩) তার লঙ্ঘন হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে রায় দেওয়া হয়েছিল যে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থাপনার বিবেচনা অপরিহার্য।
সেপ্টেম্বরের বিশেষ অধিবেশনে পাস হয় অপরাজিতা নারী ও শিশু (পশ্চিমবঙ্গ ফৌজদারি আইন সংশোধন) বিল, ২০২৪। অনুমোদনের জন্য বিলটি রাজভবনে পাঠানো হলে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তা রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেন। এই বিল সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতামতের পরেই, রাষ্ট্রপতি তা ফেরত পাঠিয়ে দেয় রাজভবনে। রাষ্ট্রপতি ভবনের পর্যবেক্ষণসহ বৃহস্পতিবার রাজ্যের ব্যাখ্যা চেয়ে বিলিটি আইন দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাজভবনের তরফে। জানা গিয়েছে, এই সমস্ত পর্যবেক্ষণগুলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তুলে ধরা হবে। তাঁর নির্দেশে অনুযায়ী আইনি পরামর্শ নিয়ে এই ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলেই নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই বিল না ছাড়া নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সদ্য কসবা আইন কলেজের ঘটনার পরে এই বিল না ছাড়ার কথা ফের একবার উঠে এসেছিল তাঁর গলায়। তিনি বলেছিলেন, ‘এই বিল আইন হয়ে গেলে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।’ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ